
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম ২২০ মিলিয়ন ডলারের একটি সরকারি বিজ্ঞাপন প্রচারণা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। মার্কিন কংগ্রেসের কিছু আইনপ্রণেতা এই চুক্তির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত ও অনিয়মের অভিযোগে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি) সীমান্ত নিরাপত্তা নীতিমালা প্রচারের উদ্দেশ্যে এই বিজ্ঞাপন প্রচারণা চালু করে। তবে কংগ্রেসের শুনানিতে অভিযোগ ওঠে যে চুক্তির প্রতিযোগিতামূলক বিডিং প্রক্রিয়া সীমিত করে মাত্র চারটি কোম্পানিকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
এ নিয়ে কংগ্রেসম্যান জো নেগুসে প্রশ্ন তুলে বলেন, এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা জালিয়াতি হয়েছে কি না তা তদন্ত করা প্রয়োজন।
ফেডারেল নথি অনুযায়ী, এই বিজ্ঞাপন চুক্তির বড় অংশ পায় দুটি প্রতিষ্ঠান— সেফ আমেরিকা মিডিয়া (প্রায় ১৪৩ মিলিয়ন ডলার) এবং পিপল হু থিংক (প্রায় ৭৭ মিলিয়ন ডলার)। সমালোচকরা অভিযোগ করেছেন, এই কোম্পানিগুলোর কিছু রাজনৈতিকভাবে রিপাবলিকান ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সঙ্গে যুক্ত।
আরও বিতর্ক তৈরি হয়েছে যখন জানা যায় যে স্ট্র্যাটেজি গ্রুপ নামে একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান—যার সঙ্গে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের একজন মুখপাত্রের পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে—এই বিজ্ঞাপন প্রকল্পে সাবকন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করেছে। এতে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সমালোচকদের আরেকটি অভিযোগ হলো, এই বিজ্ঞাপনগুলোতে ক্রিস্টি নোয়েমকে ব্যাপকভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যা অনেকের মতে সরকারি তথ্য প্রচারের চেয়ে রাজনৈতিক প্রচারণার মতো মনে হয়েছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিজ্ঞাপন প্রচারণা সম্পর্কে আগেই অবগত ছিলেন কি না তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পরে তিনি জানান, এই বিজ্ঞাপন প্রচারণা অনুমোদনের বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না।
সব অভিযোগ অস্বীকার করে ক্রিস্টি নোয়েম বলেছেন, এই বিজ্ঞাপন প্রচারণা সম্পূর্ণ বৈধ প্রক্রিয়ায় করা হয়েছে এবং এর উদ্দেশ্য ছিল সীমান্ত নিরাপত্তা নীতিমালা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা।
বর্তমানে এই ২২০ মিলিয়ন ডলারের বিজ্ঞাপন চুক্তি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে তদন্ত ও পর্যালোচনা চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।