
অ্যামেরিকা ভ্রমণের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব আন্তর্জাতিক পর্যটনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে ট্রাভেল এক্সপার্টরা।
ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিল (WTTC) প্রায় ৫ হাজার নিয়মিত আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীর ওপর পরিচালিত এক জরিপের ভিত্তিতে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত নিয়ম কার্যকর হলে ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামের আওতায় ভ্রমণকারীদের একটি বড় অংশ অ্যামেরিকায় যাওয়ার আগ্রহ হারাতে পারেন। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় এক-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য জমা দিতে বাধ্য করা হলে তারা অ্যামেরিকায় ভ্রমণে কম আগ্রহী হবেন।
ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের হিসাব অনুযায়ী, এতে অ্যামেরিকার পর্যটন খাতে প্রায় ১৫.৭ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ব্যয় বাড়তে পারে। সম্ভাব্য এক পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালে ভিসা ওয়েভারের আওতায় থাকা দেশগুলো থেকে আগত পর্যটকের সংখ্যা ৪.৭ মিলিয়ন পর্যন্ত কমতে পারে, যা ২৩ শতাংশ হ্রাসের সমান।
WTTC সভাপতি গ্লোরিয়া গেভারা বলেছেন, এ ধরনের নীতি অ্যামেরিকাকে বৈশ্বিক ভ্রমণ বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে দিতে পারে এবং ১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি কর্মসংস্থানকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তার মতে, অনেক ভ্রমণকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য চাওয়াকে ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন এবং বিকল্প গন্তব্য বেছে নিতে পারেন।
বর্তমানে ESTA ব্যবস্থারের মাধ্যমে ৪০টিরও বেশি দেশের নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই ৯০ দিনের কম সময়ের জন্য অ্যামেরিকায় ভ্রমণ করতে পারেন। প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে এই প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য যুক্ত হবে, যা আন্তর্জাতিক ভ্রমণ প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।