
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের জীবন এখন যেমন! জাপানে এশিয়ান গেমসের সোনা জয়ের পর দেশে ফিরে বিশ্রাম নেওয়ার ফুরসত খুব একটা ছিল না। এক দিন পরই নেমে পড়তে হয়েছে আরেকটি সিরিজে। মাঠের ক্রিকেটে অবশ্য তা বুঝতে দেয়নি ভারত, বুঝতে দেননি শ্রেয়াস আইয়ার। অধিনায়কের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ম্যাচ জিতেছে ভারত। ম্যাচের পর শ্রেয়াস বললেন, এবার তিনি ঘুমের কাছে সঁপে দিতে চান নিজেকে।
পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার পর জাপান থেকে ভারতীয় দল দিল্লিতে পা রাখে সোমবার। সেখান থেকে সরাসরি তাদেরকে যেতে হয় লক্ষ্নৌতে। পরদিনই যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু!
সেই ম্যাচে মঙ্গলবার ক্যারিবিয়ানদের ১৭১ রান স্রেফ তুড়ি মেরে উড়িয়ে ভারত জিতে যায় ৮ উইকেটে। অপরাজিত সেঞ্চুরিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন শ্রেয়াস।
দুই ওপেনারের বিদায়ের পর শ্রেয়াস যখন চার নম্বরে ক্রিজে যান, জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন তখন ১৩৭ রান। অবিশ্বাস্যভাবে, সেই রানের মধ্যেই সেঞ্চুরি করে ফেলেন ভারতীয় অধিনায়ক।
অন্য প্রান্তে ছিলেন ইশান কিষানের মতো আগ্রাসী ব্যাটসম্যান। তবে এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান এ দিন ঠিক ছন্দ পাচ্ছিলেন না। তিনি তাই স্রেফ স্ট্রাইক দিয়ে যান অধিনায়ককে। শ্রেয়াস শুরু থেকেই ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। ফিফটি করেন তিনি ২৮ বলে। সেখান থেকে সেঞ্চুরি ছুঁতে বল লাগে কেবল ১৪টি!
শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ১০ চার ও ৬ ছক্কায় ৪৩ বলে ১০২ রান করে।
লক্ষ্নৌর এই স্টেডিয়ামে শ্রেয়াসের রেকর্ড এমনিতেই ঝলমলে ছিল। আগের চারটি টি-টোয়েন্টিতে এখানে একটি সেঞ্চুরি ও দুটি ফিফটি করেছিলেন। গড় ছিল ২৩৩, স্ট্রাইক রেট প্রায় ১৮৮। এখন এবারের সেঞ্চুরির পর এই মাঠে তার গড় ৩৩৫, স্ট্রাইক রেট ২০০.৫৯!
এই মাঠকে কি তার নিজের ঘর বলে মনে হয়? ম্যাচ শেষে এই প্রশ্ন করতেই শ্রেয়াস বললেন ক্লান্তি ও শ্রান্তির কথা।
“সত্যি বলতে, ক্লান্তিকর ওই ভ্রমণের পর বুঝতেই পারছিলাম না, আমি কোথায় আছি। আমার মনে হয়, প্রতিদিন আমার এভাবেই ঘুম থেকে ওঠা উচিত। তবে হ্যাঁ, উইকেটের সঙ্গে, পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিয়েছি, এবং আমার মনে হয়, প্রথমে বোলিং করাটা আমাদের অনেক সাহায্য করেছে।”
ভারতীয় অধিনায়ক বললেন, পেশাদারিত্ব দিয়ে ক্লান্তিকে আড়াল করার বার্তা তিনি দিয়েছিলেন দলকে।
“আমরা এটাকে (ভ্রমণক্লান্তি) কোনো অজুহাত হিসেবে দেখিনি। অন্য যেকোনো ক্রিকেটারের মতোই আমরা খেলতে এসেছিলাম। হ্যাঁ, ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওয়ানডে সিরিজের উত্তেজনা আমরা দেখেছি, কতটা অসাধারণ ছিল। কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে এসে আমরা জানি যে, ওরা একটা বিধ্বংসী দল। তাই আমাদের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে আমরা নিজেদের প্রক্রিয়া মেনে চলি এবং আজ আমরা সেটাই করেছি। দলের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে অসাধারণ প্রচেষ্টা ছিল।”
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটি তার পঞ্চম সেঞ্চুরি হলেও ভারতের জার্সিতে প্রথম। অধিনায়ক হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তার ব্যাট হাসছিল না প্রত্যাশিত রূপে। সবশেষ ১০ ইনিংসে ফিফটি তো দূরের কথা, ৩০ রানও ছুঁতে পারেননি। সেই অধ্যায়ও পেছনে ফেললেন এই সেঞ্চুরিতে।
৩১ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান বললেন, ভারতকে নেতৃত্ব দিয়ে এমন সেঞ্চুরি করা ছিল তার এবটি স্বপ্ন।
“অবশ্যই আমি উল্লসিত। আজকের পারফরম্যান্সের জন্য আমি এমন শব্দই ব্যবহার করব। সত্যি বলতে, প্রথম সেঞ্চুরি করার কথা ভাবছিলাম আমি এবং সেটা হয়েও গেল। সুতরাং, অবশ্যই বলতে চাই যে, স্বপ্ন আসলেই সত্যি হয়।”
এই ম্যাচে ক্যারিবিয়ানদের যেভাবে দুমড়েমুচড়ে দিয়েছে ভারত, দিনটা পক্ষে থাকলে এভাবে প্রতিপক্ষকে পিষ্ট করেই জিততে চান শ্রেয়াস।
জয়ের স্বাদ অবশ্যই অন্যরকম এবং ড্রেসিংরুমে আমরা এসব নিয়েই কথা বলি। দিনটা যদি নিজেদের হয়, তবে নিশ্চিত করতে হবে, দলের জন্য যেন ম্যাচটা ভালোভাবে জিতে নেই। আজ সেটা আমিই ছিলাম। আগের কয়েকটা ম্যাচে ব্যাটসম্যানরাই খেলা শেষ করে দিয়েছিল।
“তাই হ্যাঁ, সব মিলিয়ে আমার মনে হয় এটা একটা পরিপূর্ণ পারফরম্যান্স ছিল, এবং আমি মনে করি আমরা যদি এই মানসিকতা নিয়ে খেলতে থাকি, তাহলে আমরা টি-টোয়েন্টির অন্যতম বিধ্বংসী দল হয়ে উঠব।”
সবশেষে আর ফিরে এলো ক্লান্তির কথা। সঞ্চালক হার্শা ভোগলে জিজ্ঞেস করলেন, “আজ রাতে কি অনেকক্ষণ ঘুমাবেন?” শ্রেয়াসের যেন তর সইছিল না বিছানায় যেতে।
“সেটার অপেক্ষাতেই আছি! আমার তো এখনই ঘুম পাচ্ছে। দেখতে পাচ্ছিলাম, আকসারের চোখও লাল হয়ে গেছে। আমি নিশ্চিত, আমাদের সবারই ঘুম পাচ্ছে।”