
বাংলাদেশ ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন নতুন কোচ টমাস ডুলি। জার্মান বংশোদ্ভূত এই কোচের প্রথম লক্ষ্য, ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশকে ১৬০ থেকে ১৫০-এর মধ্যে নিয়ে আসা। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এটি রাতারাতি সম্ভব নয়; প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও মানসিকতার পরিবর্তন।
শুক্রবার (২২ মে) সকালে ঢাকায় পৌঁছানোর পর বিকালে বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসপিএ) স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে যোগ দেন ডুলি। সেখানে বিজয়ী ক্রীড়াবিদদের প্রশংসা করেন এবং লাল-সবুজের পতাকা হাতে ফটোসেশনেও অংশ নেন তিনি।
হাভিয়ের কাবরেরার বিদায়ের পর নানা জল্পনা শেষে শুক্রবারই টমাস ডুলিকে নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। জার্মানির সাবেক কোচ ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমানের সঙ্গে কাজ করা এই অভিজ্ঞ কোচ দুটি বিশ্বকাপেও খেলেছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে রোববার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব শুরু করবেন তিনি। আগামী ৫ জুন সান মারিনোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের ডাগআউটে অভিষেক হবে তার।
দীর্ঘ ৪৫ বছরের ফুটবল অভিজ্ঞতায় এশিয়ার ফুটবলেও কাজ করেছেন ডুলি। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ফিলিপাইনের প্রধান কোচ ছিলেন তিনি। তার অধীনে দলটি অপরাজিত থেকে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেয় এবং নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ফিফা র্যাঙ্কিং অর্জন করে।
বর্তমানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১তম। এই অবস্থা থেকে দলকে ধীরে ধীরে এগিয়ে নিতে চান ডুলি। তার মতে, সফলতা পেতে হলে খেলোয়াড়দের ত্যাগ স্বীকার ও মানসিক দৃঢ়তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ডুলি বলেন, কোনো কিছু অর্জন করতে হলে কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি ত্যাগ স্বীকার করতেও হয়। যারা সেটা করতে প্রস্তুত, তাদের নিয়েই আমরা সফল হতে পারব। আমার লক্ষ্য বাংলাদেশকে ১৬০ বা ১৫০-এর মধ্যে নিয়ে আসা। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া।
তিনি আরও জানান, ফুটবলে সফলতার বিষয়ে লেখা তার বই ‘দা ট্রুথ অ্যাবাউট সাকসেস ইন সকার দ্যাট নো ওয়ান টিচেস’-এ চারটি মূল স্তম্ভের কথা বলা হয়েছে, যার অন্যতম হলো মানসিকতা। তার মতে, চিন্তাধারার পরিবর্তন ছাড়া উন্নতি সম্ভব নয়।
২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর বড় কোনো শিরোপা জিততে পারেনি বাংলাদেশ। গত সাফেও দল থেমে যায় সেমিফাইনালে। তবে সমর্থকদের প্রত্যাশার চাপ নিতে প্রস্তুত বলেই জানিয়েছেন ডুলি।
হাস্যরসের সুরে তিনি বলেন, বাংলাদেশেও মনে হয় লাখ লাখ কোচ ঘুরে বেড়াচ্ছেন, যারা ফুটবল বোঝেন। এটা আসলে ইতিবাচক বিষয়। তবে আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। বাস্তবসম্মত লক্ষ্য ঠিক করতে পারলে বাংলাদেশও সফল হতে পারবে।