ভারতীয় টাকা যেন পাকিস্তানের হাতে না যায়—‘দ্বিমুখী’ নীতির সমালোচনার মুখে গাভাস্কারের জবাব

স্পোর্টস ডেস্ক
  ২২ মার্চ ২০২৬, ১৩:৪৬

ক্রিকেট মাঠে তাঁর ব্যাট একসময় কথা বলত। এখন কথা বলেন তিনি নিজেই। আর সেই কথাতেই নতুন বিতর্কের আগুন। ভারতের সাবেক অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কার এবার সরাসরি জবাব দিলেন সমালোচকদের, তাঁকে ‘দ্বিমুখী’ বলার অভিযোগ একেবারেই মানতে নারাজ তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত দ্য হানড্রেড ২০২৬ নিলাম। সেখানে পাকিস্তানের স্পিনার আবরার আহমেদকে দলে নিয়েছে সানরাইজার্স লিডস। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি চেন্নাইভিত্তিক সান গ্রুপের প্রতিষ্ঠান, যার নেতৃত্বে কালানিথি মারান। তাঁর মেয়ে কাব্য মারান সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, সানরাইজার্স লিডস ও সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপের সহমালিক।
সানরাইজার্স লিডস নিলামে আবরার আহমেদকে দলে নেওয়ার পরই ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক লিগের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন গাভাস্কার। তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে উসকে দেয় ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট সম্পর্কের বিতর্ক।
কিন্তু এখানেই থামেনি আলোচনা। উল্টো প্রশ্ন উঠেছে গাভাস্কারকে নিয়েই। সমালোচকদের অভিযোগ—একদিকে তিনি পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অর্থপ্রাপ্তি নিয়ে আপত্তি তুলছেন, অন্যদিকে নিজে আন্তর্জাতিক ধারাভাষ্য প্যানেলে কাজ করছেন, এমনকি পাকিস্তান-সংশ্লিষ্ট একটি অনুষ্ঠানে অংশও নিয়েছেন। তাহলে ওটা কি দ্বিমুখী নীতি নয়?
বয়সকে হার মানিয়ে উগান্ডার ‘ক্রিকেট দাদি–নানিদের’ জয়গান
এ অভিযোগের জবাবেই গাভাস্কারের কণ্ঠ আরও কঠিন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘মিড ডে’–তে তিনি বলেছেন, ‘হ্যাঁ, আমি আইসিসি ও এসিসির ধারাভাষ্য প্যানেলে ছিলাম। কিন্তু সেই আয়ের অর্থ গেছে সব অংশগ্রহণকারী দেশের কাছে। কোনো ভারতীয় সংস্থা থেকে নয়, যত দূর জানি। আমি কাউকে পারিশ্রমিক দিই না—না ভারতীয়, না অন্য কোনো দেশের কাউকে। তাহলে আমাকে কীভাবে দায়ী করা যায়?’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘অন্য খেলাধুলায় কী হচ্ছে, আমি জানি না। আমি শুধু চাই, ভারতীয়রা যেন পাকিস্তানিদের অর্থ দেওয়া বন্ধ করে। খেয়াল করলে দেখবেন, উল্টোটা কিন্তু কখনোই হয়নি—দশকের পর দশক ধরে।’
গাভাস্কারকে নিয়ে সমালোচনার আরেকটি বিষয় আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ২০২৫ চলাকালীন দুবাইয়ে একটি ইউটিউব অনুষ্ঠান। ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড ড্রেসিংরুম’ নামে সেই শোতে গাভাস্কারের সঙ্গে ছিলেন পাকিস্তানের সাবেক তারকা ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনিস। এটাকেও অনেকে তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দেখাচ্ছেন। কেউ কেউ বলছেন, যেখানে তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বলছেন, সেখানে তাঁদের সঙ্গেই এক ফ্রেমে হাসিঠাট্টা করা তাঁকে মানায় না।
তবে গাভাস্কারের দাবি, ওই অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও এর সঙ্গে কোনো আর্থিক লেনদেন ছিল না। এমনকি এশিয়া কাপ ঘিরে অনুরূপ আরেকটি অনুষ্ঠানের সঙ্গেও তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক বা আর্থিক সম্পৃক্ততা নেই। গাভাস্কার বলেছেন, ‘দুবাইয়ের ওই অনুষ্ঠানের জন্য আমি কোনো পারিশ্রমিক চাইনি, পাইওনি।’