‘যে দেশ নিজেই যুদ্ধে লিপ্ত, সেখানে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া বিপজ্জনক’

স্পোর্টস ডেস্ক
  ১৮ মার্চ ২০২৬, ১৪:৫৫

বিশ্বকাপ শুরুর তিন মাস আগেও যুদ্ধে লিপ্ত অন্যতম আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানে তারা ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম যৌথ হামলা শুরু করে। ইরান পার্শ্ববর্তী দেশের মার্কিন ঘাটিতে পাল্টা হামলা চালাতে গিয়ে অস্থির হয়ে উঠেছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য। এই অবস্থায় আসন্ন বিশ্বকাপেও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা শোনা যাচ্ছিল। এবার একই দাবি তুলেছেন বিশ্বকাপজয়ী সাবেক জার্মান কোচ জোয়াকিম লো–ও।
আগামী ১১ জুন থেকে বিশ্বকাপের আসর বসবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায়। চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ফিফার এই মেগা ইভেন্টকে আড়ালে ঢেকে দিচ্ছে বলেও মনে করেন জোয়াকিম লো, ‘রাশিয়ায় ২০১৮ বিশ্বকাপের আগে আমাদের মাঝে বিতর্ক হয়েছিল এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের আগে বয়কটের ডাক উঠেছিল। কিন্তু যে দেশ নিজেই যুদ্ধে লিপ্ত সেখানে খেলা আরও বেশি বিপজ্জনক। রাজনৈতিক পরিস্থিতি এই টুর্নামেন্টকে পুরোপুরি অন্ধকারে ঢেকে দিচ্ছে।’
একদিকে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ চলছে। অন্যদিকে, গত মাসে বিশ্বকাপের আরেক আয়োজক মেক্সিকোর মাদক সম্রাট ‘এল মাঞ্চো’কে হত্যার ঘটনায় দেশটির নানা প্রান্তে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সে ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকদিন ধরেই মাদক কারবারিদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলে নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাহিনীর। এ ছাড়াও দেশটিতে সহিংসতার ঘটনা নতুন কিছু নয়। 
সম্প্রতি পশ্চিম জার্মানির সাবেক কোচ রেইনার বোনহফ এবং বিশ্বকাপজয়ী কয়েকজনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন ২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী জার্মান কোচ জোয়াকিম লো। সেই আলোচনায় আসন্ন বিশ্বকাপে নিরাপত্তা প্রসঙ্গও উঠে আসে। সাবেক জার্মান ফুটবলার বোনহফ বলেন, ‘আমি জানি না আসলেই এই টুর্নামেন্টে খেলা উচিত কি না। বর্তমান পরিস্থিতিতে কেবল কানাডা নিরপেক্ষ দেশ। আমি চাই না বিশ্বকাপের কোনো আসর বয়কট করতে– আমরা ফুটবলপ্রিয় মানুষ। কিন্তু আমাদের নিরাপত্তা নিয়েও ভাবতে হচ্ছে, যা আমরা এখনও সেভাবে বিবেচনায় নিচ্ছি না।’
বোনহফ জার্মান বুন্দেসলিগার ক্লাব বরুসিয়া মনচেনগ্লাডবাকের বর্তমান প্রেসিডেন্ট। মেক্সিকোয় কেউ বিশ্বকাপ খেলতে যাক এমনটা বলতে চান না তিনি, ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে আমি কাউকে মেক্সিকোয় খেলতে যেতে বলব না।’ এর আগে মাঝে ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চাওয়ার ইস্যুতে জার্মানি বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে বলে গুঞ্জন উঠেছিল। পরবর্তীতে জার্মান সকার ফেডারেশন সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দেয়। পরবর্তীতে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল।