
বিসিবি ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলাম ‘চুরি’ ঠেকাতে নিখুঁতভাবে বিল ভাউচার পরখ করে দেখেন। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ দলের বোলারদের বুট ৩০ হাজার টাকায় কেনা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। আইসিসির এলিট আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকতকে বিপিএলে আড়াই হাজার ডলার ম্যাচ ফি দেওয়া নিয়েও সমালোচনায় মুখর নাজমুল ইসলাম।
বিসিবির এই পরিচালক বিতর্ক উস্কে দেওয়ার জন্য অনেক ঘটনার জন্ম দিলেও লিগ ও টুর্নামেন্ট আয়োজনে খরচের ফাইল পড়তে গিয়ে চোখে ‘কাঠের চশমা’ পরে থাকেন বলে অভিযোগ। ক্রিকেট-সংশ্লিষ্টরা মনে করেন লিগ ও টুর্নামেন্ট আয়োজনের নামে বিসিবির সঞ্চয় থেকে বেহিসাবি খরচ করছে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের পরিচালনা পর্ষদ।
জাতীয় লিগ টি২০ দিয়ে গত অক্টোবরে শুরু হয় ক্রিকেট মৌসুম। অনেক টানাপোড়েনের পর প্রথম বিভাগের ১২টি দল নিয়ে মাঠে গড়ায় ‘অর্ধেক লিগ’। প্রথম বিভাগে লিগ বয়কট করা আট দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে আয়োজন করা হয় সিসিডিএম চ্যালেঞ্জ কাপ টি২০। পূর্বাচল জাতীয় ক্রিকেট কমপ্লেক্সে চ্যালেঞ্জ কাপের ফাইনাল আজ। বিশ্বকাপ বয়কট করায় ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দিতে টি২০ টুর্নামেন্টের আয়োজন করে বিসিবি।
গত পাঁচ মাসে দেশে লিগ ও টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে কোটি কোটি টাকা খরচ হলেও দেশের বাজার থেকে সেভাবে আয় করতে পারেনি বিসিবি। ঢাকা প্রথম বিভাগের ‘অর্ধেক’ লিগ খেলাতে তিন কোটি টাকার বেশি খরচ হয়েছে। কারণ অংশগ্রহণকারী প্রতিটি ক্লাবকে ১৫ লাখ টাকা অনুদান দিতে হয়েছে। এ ছাড়া ১২টি দলের জন্য আর্থিক পুরস্কার ছিল ৬৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ম্যাচসেরা, সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি, রান সংগ্রাহক এবং আরও কিছু পুরস্কার মিলে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।
লিগের খেলা চালাতে মাঠ ভাড়া নিতে হয়েছে বোর্ডকে। সব মিলিয়ে তিন কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে অপূর্ণ লিগ আয়োজন করতে। চ্যালেঞ্জ কাপের বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা। চার গ্রেডে ক্রিকেটারদের সম্মানী দেওয়া হচ্ছে। ‘এ’ প্লাস ক্যাটেগরিতে আড়াই লাখ, ‘এ’ ক্যাটেগরিতে দেড় লাখ, ‘বি’ ক্যাটেগরিতে এক লাখ ও ‘সি’ ক্যাটেগরির ক্রিকেটারদের জন্য ৬০ হাজার টাকা সম্মানী নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্বকাপের বিকল্প অদম্য বাংলাদেশ টি২০ কাপের প্রাইজমানি রাখা হয়েছে আড়াই কোটি টাকা। তিন দলের এ টুর্নামেন্ট আয়োজনের পেছনে পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকার বেশি খরচ হতে পারে বলে মনে করেন ক্রিকেট সংগঠকরা। জাতীয় লিগের বিশাল খরচ বিসিবির নিয়মিত ব্যয়। এ বছর বেশি ভর্তুকি দিতে হয়েছে বিপিএলে। চট্টগ্রাম রয়্যালসের পুরো ব্যয় মেটাতে হয়েছে বিসিবিকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বোর্ডকে সাড়ে ১১ কোটি টাকা দিতে হচ্ছে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির ব্যয় নির্বাহে। এই খরচের বিষয়ে জানতে বিসিবির ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলামকে ফোন করে পাওয়া যায়নি। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও ফোন ধরেননি।
সূত্র: সমকাল