
সম্প্রতি সাংবাদিক আব্দুর রব ভুট্টো সিআইডির সাবেক প্রধান মো: ছিবগাত উল্লাহসহ কতিপয় পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মানহানিকর অভিযোগ এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন। তার দাবি, বেক্সিমকো গ্রুপের ১৭টি মামলায় শুধুমাত্র সালমান এফ রহমানকে অভিযুক্ত করে বাকিদের বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এর বিনিময়ে শত কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছে।
বাস্তবতা ও দাপ্তরিক নথিপত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আব্দুর রব ভুট্টোর এই দাবি সম্পূর্ণ বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সিআইডির পেশাদার কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার একটি অপচেষ্টা মাত্র।
সিআইডির তদন্ত, ১৭টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা ও সুনির্দিষ্ট তথ্য:
১. সালমান রহমান ও তার ছেলেসহ ১৭টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আদালতে সিআইডির অভিযোগপত্র দাখিল:
বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান এবং চেয়ারম্যান আহমেদ শাহরিয়ার এফ রহমানের কর্পোরেট গ্যারান্টিযুক্ত ১৭টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দুবাইতে অর্থপাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট তদন্ত শেষ করে বিজ্ঞ আদালতে চার্জশিট/অভিযোগপত্র দাখিল করেছে।
অভিযুক্ত ১৭টি প্রতিষ্ঠান হলো:
1. Garments Limited
2. Apollo Apparels Limited
3. Autumn Loop Apparels Limited
4. Bextex Garments Limited
5. Cosmopolitan Apparels Limited
6. Cozy Apparels Limited
7. Esses Fashion Ltd
8. International Knitwear And Apparels Ltd
9. Kanchpur Apparels Limited
10. Midwest Garments Limited
11. Peerless Garments Limited
12. Pink Maker Garments Limited
13. Platinum Garments Limited
14. Skynet Apparels Limited
15. Springful Apparels Limited
16. Urban Fashions Limited
17. Winter Sprint Garments Limited
২. পাচারের কৌশল ও পরিমাণ: উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে জনতা ব্যাংক পিএলসি লোকাল অফিস (মতিঝিল, ঢাকা) থেকে এলসি বা সেলস কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে দুবাইয়ে তাদের ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান ও আহমেদ শাহরিয়ার রহমানের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান 'আর আর গ্লোবাল ট্রেডিং এফজেডই'-তে ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৯৯,৯৬৬,৮০২ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১১৬৩,৬০,১৬,২৭০/- টাকা) পণ্যমূল্য রপ্তানি করে তা না এনে অর্থপাচার করা হয়।
৩. সিআইডির উদ্যোগে মামলা:বেক্সিমকোর অর্থ পাচারের ঘটনায় সিআইডি নিজে বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় ১৭টি মানিলন্ডারিং মামলা দায়ের করেছে।
৪. একাধিক গ্রেপ্তার ও অভিযুক্ত তালিকা:আব্দুর রব ভুট্টোর দাবি অনুযায়ী কেবল সালমান এফ রহমানকে মামলায় অভিযুক্ত করে অন্যদের বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ চার্জশিটে দেখা যায় সালমান এফ রহমান, তার সন্তান সায়ান এফ রহমান ও শাহরিয়ার রহমানসহ মোট ২৮ জন ব্যক্তি ও ১৭টি প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।
৫. সালমান এফ রহিমানকে গ্রেফতার: শুধু মামলা না এই ঘটনায় সালমান এফ রহমানের পাশাপাশি Autumn Loop Apparels Limited-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা এখন কারাগারে রয়েছে।
৬. সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজ:মামলা দায়েরের পর সিআইডি আসামিদের নিজ নামে ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ঢাকা জেলার দোহার থানা এলাকায় প্রায় ২ হাজার শতাংশ জমি, গুলশানের 'দ্য এনভয়' বিল্ডিংয়ে আহমেদ শাহরিয়ার রহমানের নামে থাকা ৬,১৮৯.৫৪ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট এবং গুলশান আবাসিক এলাকার ৬৮/এ নম্বর রাস্তার ৩১ নম্বর প্লটের 'ট্রিপ্লেটস' বিল্ডিংয়ে ২,৭১৩ বর্গফুটের আরও একটি ফ্ল্যাট ক্রোক করা হয়। এছাড়া ধানমন্ডিতে একটি ১৫ তালা ভবন, ২টি ৪ তলা ভবন ও ২টি ৩ তলা ভবন জব্দ করা হয়েছে। এছাড়াও আসামিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ ও বিদেশ গমন রোধ করা হয়েছে।
৭. ঐতিহাসিক সাফল্য ও ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্ধার: সিআইডির সাবেক প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহর নেতৃত্বে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে পাচার হওয়া ৩.৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার উদ্ধার করে দেশে ফেরত আনা হয়, যা সম্পদ পুনরুদ্ধারে (Asset Recovery) দেশের একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।
আব্দুর রব ভুট্টোর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের স্বরূপ
সাংবাদিক আব্দুর রব ভুট্টোর তথ্যবর্জিত পোস্টই প্রমাণ করে তিনি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা না করে ব্যক্তিস্বার্থ ও বিশেষ উদ্দেশ্যে তাড়িত হয়ে মিথ্যাচার করছেন।
সৎ কর্মকর্তাদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা: চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও যারা রেকর্ড সময়ে তদন্ত শেষ করে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় পাচারকৃত সম্পত্তি ক্রোক ও ব্যাংকিং চ্যানেল রিকভারি নিশ্চিত করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে বানোয়াট টাকার গল্প ফেঁদে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।*
তদন্ত ভুলভাবে উপস্থাপন:দাপ্তরিক নথিতে ১৭টি সুনির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নাম, ৯৯.৯৬ মিলিয়ন ডলার পাচারের স্পষ্ট হিসাব, একাধিক গ্রেপ্তার এবং ২৮ জন অভিযুক্তের নাম থাকা সত্ত্বেও তা গোপন করে "কেবল একজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে" বলে মনগড়া প্রচার চালানো স্পষ্টতই অপরাধীদের বাঁচানো বা জনগণের নজর অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার অপকৌশল।
প্রকৃত সত্য হলো, সিআইডির তৎকালীন প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ ও তার দল সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও সততার পরিচয় দিয়ে আইনি ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছেন। আব্দুর রব ভুট্টোর মতো ভূঁইফোড় সাংবাদিকদের অপপ্রচার নথিপত্র ও আদালতের তথ্যের সামনে একেবারেই ভিত্তিহীন।