সোশ্যাল সিকিউরিটি-ওয়ার্ক পারমিটে কড়াকড়ি

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:১৮

ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) অ্যাসাইলাম ও রিফিউজি স্ট্যাটাসের জন্য আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া কঠোর করার পাশাপাশি ওয়ার্ক পারমিট ও সোস্যাল সিকিউরিটি নাম্বার ইস্যুর নিয়মে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব দিয়েছে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মতে, এর মাধ্যমে ভুয়া বা অযোগ্য অ্যাসাইলাম আবেদন কমানো, দীর্ঘদিন যাবত আটকে থাকা আবেদন নিস্পত্তি করা এবং সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে প্রকৃত ঝুঁকিপূর্ণ আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব হবে। বর্তমানে অ্যাসাইলাম আবেদন বিবেচনাধীন থাকলেই আবেদনকারীরা প্রাথমিক যাচাইয়ের ভিত্তিতে কাজের অনুমতি পান। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির দাবি, এ ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে অযোগ্য অ্যাসাইলাম আবেদনকারীরা বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। কাজকর্ম করছেন, বাড়ির মালিক হচ্ছেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করেছেন এবং আমেরিকান সন্তান জন্ম দিচ্ছেন।
এসব কারণে জটিলতা নানামুখী হয়ে উঠেছে। প্রস্তাবিত বিধি কার্যকর হলে ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার যোগ্যতার শর্ত আরও কড়াকড়ি করা হবে, নথিপত্র ও যাচাই প্রক্রিয়া জোরদার করা হবে এবং নিরাপত্তা ও পটভূমি তদন্ত শক্তিশালী করা হবে।
ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) জানিয়েছে, বর্তমানে ১৪ লাখের বেশি অ্যাসাইলাম আবেদন মুলতবি রয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মতে, প্রায় প্রতিটি অবৈধ অভিবাসী অ্যাসাইলামের জন্য আবেদন করে বর্তমান ব্যবস্থার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে, ফলে আবেদন প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়েছে।
হোমল্যান্ডের এক মুখপাত্র বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া আবেদনের ভিত্তিতে কাজের অনুমতি পাওয়া তুলনামূলক সহজ ছিল, যা অভিবাসন ব্যবস্থাকে চাপের মধ্যে ফেলেছে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে আশ্রয় ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, প্রস্তাবিত বিধি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশ ১৪১৫৯-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিধিটির নোটিস ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের পর ৬০ দিন জনমত গ্রহণ করা হবে। মতামত পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রস্তাব কার্যকর হলে আবেদন চলাকালে কাজের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল অ্যাসাইলাম আবেদনকারীরা তাৎক্ষণিক প্রভাবের মুখে পড়তে পারেন। তবে প্রশাসনের দাবি, এতে প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন এবং দীর্ঘদিনের জট কমবে।
চাইল্ড সাপোর্ট বকেয়া থাকলে পাসপোর্ট জব্দ হতে পারে
যেসব আমেরিকান অভিভাবক আদালত নির্ধারিত চাইল্ড সাপোর্ট পরিশোধ না করে দীর্ঘদিন বকেয়া রেখেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯৬ সালে প্রণীত আইনের আওতায় অন্তত ২,৫০০ ডলার বা তার বেশি চাইল্ড সাপোর্ট বকেয়া থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পাসপোর্ট ইস্যু বা নবায়ন আটকে দেওয়ার বিধান রয়েছে। এতদিন আইনটি সীমিত পরিসরে প্রয়োগ হলেও এখন তা আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওই আইনটি হলো পারসোনাল রেসপন্সিবিলিটি এন্ড ওয়ার্ক অপারচুইনিটি রিকসনসিলিয়েশন এ্যাক্ট। এই আইনের অধীনে চাইল্ড সাপোর্টে নির্ধারিত পরিমাণ বকেয়া থাকলে স্টেট ডিপার্টমেন্ট পাসপোর্ট আবেদন স্থগিত বা প্রত্যাখ্যান করতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনো অভিভাবক যখন পাসপোর্ট নবায়ন, নতুন পাসপোর্টের আবেদন বা বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেন, তখন তার বকেয়া চাইল্ড সাপোর্টের তথ্য যাচাই করা হয়। নির্ধারিত সীমার বেশি বকেয়া থাকলে আবেদন আটকে দেওয়া হয়।
নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে বকেয়া পরিশোধ না করা ব্যক্তিদের তালিকা যাচাই করে সরাসরি পাসপোর্ট জব্দের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ এন্ড হিউম্যান সার্ভিসেস বকেয়া চাইল্ড সাপোর্টদাতাদের তথ্য সংগ্রহ করছে। এপি’র এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হাজার হাজার অভিভাবক চাইল্ড সাপোর্ট পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছেন। এদের মধ্যে পাঁচ শতাধিক ব্যক্তির প্রত্যেকের বকেয়া অর্থের পরিমাণ লক্ষাধিক ডলার। প্রথম ধাপে এসব বড় অঙ্কের বকেয়া থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে আইনটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত চাইল্ড সাপোর্ট খাতে বিপুল অঙ্কের বকেয়া জমে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মোট বকেয়ার পরিমাণ ৬২১ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, শিশুদের ন্যায্য ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে আইনের কঠোর প্রয়োগ ছাড়া বিকল্প নেই। তবে নাগরিক অধিকার সংশ্লিষ্ট মহলে এ নিয়ে আলোচনাও শুরু হয়েছে।
ব্যাংক গ্রাহকদের নাগরিকত্ব যাচাই বাধ্যতামূলক করা হতে পারে
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমান ও ভবিষ্যৎ গ্রাহকদের নাগরিকত্ব যাচাই করতে ব্যাংকগুলোকে বাধ্য করার একটি নতুন নির্দেশনা বিবেচনা করছে বলে একাধিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে সিএনএন। সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই পদক্ষেপটি নির্বাহী আদেশ (এক্সিকিউটিভ অর্ডার) জারির মাধ্যমে কার্যকর হতে পারে। যদিও পরিকল্পনাটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে তা বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকদের কাছ থেকে পাসপোর্টসহ নাগরিকত্ব প্রমাণের নথি সংগ্রহ করতে হতে পারে-যা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নজিরবিহীন উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হবে। বর্তমানে মানি লন্ডারিংবিরোধী আইন এবং ‘নো ইয়োর কাস্টমার’ নীতির আওতায় ব্যাংকগুলো গ্রাহকের পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই করে। তবে নাগরিকত্বের তথ্য সংগ্রহ বা যাচাই বাধ্যতামূলক নয়। নতুন নির্দেশনা জারি হলে শুধু নতুন গ্রাহক নয়, বিদ্যমান গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও নাগরিকত্ব–সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করার প্রয়োজন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আর্থিক খাত–সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।
এক শিল্প–সংশ্লিষ্ট সূত্র ঈঘঘ–কে বলেছে, “প্রতিটি ব্যাংক গ্রাহকের নাগরিকত্ব যাচাই করা কার্যত অসম্ভব ও অকার্যকর হবে।” তাদের আশঙ্কা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে অনিবন্ধিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকে পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত করা হতে পারে। তবে হোয়াইট হাউস সম্ভাব্য নির্বাহী আদেশের বিষয়টি নিশ্চিতও করেনি, অস্বীকারও করেনি।
এক বিবৃতিতে মুখপাত্র বলেন, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া সম্ভাব্য নীতিনির্ধারণ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো “ভিত্তিহীন অনুমান।”
অভিবাসন-কেন্দ্রিক কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষাপটে এর আগেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সিএনএন–এর আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস (আইআরএস)-এর প্রায় ৫০ জন জ্যেষ্ঠ তথ্যপ্রযুক্তি কর্মকর্তা—যাদের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞও ছিলেন প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়, যখন করদাতাদের তথ্য ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ভাগাভাগির একটি পরিকল্পনা চূড়ান্ত হচ্ছিল। পরে এক ফেডারেল বিচারক সেই উদ্যোগ স্থগিত করেন।
ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব দ্যা ট্রেজারি তখন জানায়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ছুটিতে পাঠানোর সঙ্গে অভিবাসন প্রয়োগে আইআরএসের তথ্য ব্যবহারের কোনো সম্পর্ক নেই। এর মধ্যেই প্রশাসন “কনজারভেটিভদের ডি-ব্যাংকিং” ইস্যুতে ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ বাড়িয়েছে। ধর্মীয় বা রাজনৈতিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে সেবা সীমিত করলে ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে গত বছর একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ছাড়া ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হামলার পর গ্রাহক তালিকা থেকে তাকে বাদ দেওয়ায় জেপি মরগান চেজ এর বিরুদ্ধে সম্প্রতি মামলা করেছেন তিনি। ব্যাংকটি জানিয়েছে, ওই মামলার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
নাগরিকত্ব যাচাই-সংক্রান্ত সম্ভাব্য এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে অভিবাসন নীতি ও আর্থিক গোপনীয়তাÑসংক্রান্ত বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।