
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গত জুনে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে উল্লিখিত সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলা হবে না বলে জানিয়েছে ইরান।
রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এ কথা জানান। খবর রয়টার্সের।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে ইরান একটি প্রস্তাব দিয়ে বলেছিল, শর্তগুলো পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং স্বাভাবিক নৌ চলাচল ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে।
গালিবাফ বলেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের অবস্থান সম্পূর্ণ স্পষ্ট ও দৃঢ়; ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের ওপর ভিত্তি করে আমাদের সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খোলা হবে না।’
তিনি বলেন, ওয়াশিংটনকে অবশ্যই বুঝতে হবে, ‘(কূটনৈতিক) প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা এবং একতরফা দাবি চাপিয়ে দেওয়ার সময় শেষ হয়ে গেছে।’
পারমাণবিক বিষয়ে আলোচনা হবে না
রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া জবাবে নিজেদের সামগ্রিক অবস্থান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট করেছে তেহরান। তবে আরও কিছু বিষয় ওয়াশিংটনকে জানানো বাকি রয়েছে।
মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘আমেরিকানদের প্রস্তাবগুলো কম-বেশি তাদের আগের অবস্থানের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ, বিশেষ করে পারমাণবিক ইস্যুর ক্ষেত্রে। আমরা তাদের জানিয়েছি, এই পর্যায়ে আমাদের মূল মনোযোগ হরমুজ প্রণালীর বিষয়ে এবং এই জলপথে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ প্রয়োজন।’
তিনি আরও অস্বীকার করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে ইরান তার পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থাকে (আইএইএ) পরিদর্শনের প্রস্তাব দিয়েছে—এমন কথা অস্বীকার করেন বাঘাই। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারমাণবিক বিষয়ে কোনো আলোচনা শুরু করেনি ইরান।
আলোচনা সম্পর্কে অবগত এক কর্মকর্তা গত সপ্তাহে জানান, বর্তমানে যে নথিটি নিয়ে আলোচনা চলছে, তাতে সাত দিনব্যাপী বিশ্বাস-স্থাপনের প্রক্রিয়ার রূপরেখা রয়েছে। এর লক্ষ্য হলো উভয় পক্ষকে জুনে সম্মত হওয়া সমঝোতা স্মারকের একটি উন্নত সংস্করণে ফিরিয়ে আনা, যার মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, মতপার্থক্যের মূল কারণ পরিকল্পনার বিষয়বস্তু নয়, বরং পদক্ষেপগুলো কোন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে তা নিয়ে।
আরাগচির হুঁশিয়ারি
রবিবার তেহরানে বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের উদ্দেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ওয়াশিংটন কূটনীতির পথই বেছে নেবে বলে প্রত্যাশা তেহরানের। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তার জবাব দিতে ইরান প্রস্তুত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিভিন্ন সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি বড় আকারের সামরিক হামলা পুনরায় শুরু করে, তবে ইরান আরও ব্যাপক ও কঠোর জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আরাগচি আরও বলেন, ‘তারা যদি আবারও সামরিক সমাধানের পথে এগোয়, তবে আমরা আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রস্তুত থাকব এবং নিজেদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নেব।’
রোববার সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া ফার্স নিউজ এজেন্সিকে জানান, ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বাড়াবে।