দিল্লির জৌলুসের মধ্যেই সহিংসতায় মণিপুরে নিহত ৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৩৭

ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে যখন আভিজাত্যের জৌলুস, ঠিক তখন আবারও রক্তাক্ত হলো উত্তর-পূর্বের মণিপুর। রাজ্যটিতে নতুন করে সহিংসতায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন এক নারী।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) তামেংলং ও নোনি জেলায় কুকি অধ্যুষিত গ্রামে জোড়া হামলায় এসব প্রাণহানি হয়েছে।
এদিন প্রথম হামলাটি হয় তামেংলংয়ে। সেখানে দুজন নিহত হন। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর দ্বিতীয় হামলায় আরও দুজন নিহত হন। হামলার ঘটনায় এক নারী নিখোঁজ রয়েছেন বলেও জানা গেছে।
কুকি সংগঠনগুলোর অভিযোগ, নাগা বিদ্রোহী সংগঠন এনএসসিএন (আইএম) ও জেডইউএফ (কে)-এর সদস্যরা এসব হামলার জন্য দায়ী। তবে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পরিবারের ওপর হামলা
কাইমাই গ্রাম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভোর প্রায় চারটার দিকে সশস্ত্র হামলাকারীরা একটি পরিবারের ওপর গুলিবর্ষণ করে।
নিহত ব্যক্তিদের একজন সেইনেহ সিংসিত। হামলায় তার স্ত্রী লিংজাংগাইও নিহত হন। এ সময় তাদের ছয় বছরের ছেলে
গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আহত শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ডে গভীর দুঃখপ্রকাশ করেছেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং। তিনি বলেন, নিরপরাধ বেসামরিক মানুষকে হত্যা করা কাপুরুষোচিত ও অগ্রহণযোগ্য।
‘ব্ল্যাক ডে’র দিনে হামলা
ঘটনাটি এমন এক দিনে ঘটেছে, যেদিন মণিপুরের কুকি সম্প্রদায় ‘সহনিত নি’ বা ‘ব্ল্যাক ডে’ পালন করে। প্রতি বছর ১৩ সেপ্টেম্বর কুকি সম্প্রদায় এই দিনটি পালন করে।
১৯৯০-এর দশকে কুকি-নাগা সংঘাতে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে দিনটি পালন করা হয়। ফলে এবারের হামলা কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি করেছে।
অর্থনৈতিক অবরোধের ঘোষণা
হামলার প্রতিবাদে ২৪ ঘণ্টার অর্থনৈতিক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে আঞ্চলিক সংগঠন কুকি ইনপি জিরি, তামেংলং ও নোনি।
কাইমাই গ্রাম কর্তৃপক্ষ হামলাটিকে পরিকল্পিত ও সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
একই সঙ্গে টোলেন ও আশপাশের কুকি গ্রামগুলোতে দ্রুত কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের দাবিও জানানো হয়েছে।
‘সহিংসতা শান্তির পথ নষ্ট করতে পারবে না’
ঘটনার পর মণিপুরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোবিন্দাস কোন্থৌজাম বলেন, সহিংসতার কোনো ঘটনাকেই রাজ্যের শান্তি ও স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার পথ ব্যাহত করতে দেওয়া হবে না।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি টোলেন কুকি গ্রামে ঘটে যাওয়া ঘটনায় গভীর দুঃখপ্রকাশ করেন।
নতুন এই হামলার পর মণিপুরে জাতিগত উত্তেজনা আবারও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: দ্য উইক