আজাদ কাশ্মীরকে আরও সাংবিধানিক ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব বিলাওয়াল ভুট্টোর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  ১৯ জুলাই ২০২৬, ০০:২০

পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরকে (এজেকে) আরও বেশি সাংবিধানিক ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি জাতীয় অর্থ কমিশন (এনএফসি), অভিন্ন স্বার্থ পরিষদ (সিসিআই) এবং ফেডারেল মন্ত্রিসভাসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে আজাদ কাশ্মীরের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দাদিয়ালে এক জনসভায় আসন্ন আজাদ কাশ্মীর আইনসভা নির্বাচনের জন্য পিপিপির নির্বাচনি প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেন বিলাওয়াল। এলএ-১ দাদিয়াল আসনে দলের প্রার্থী আফসার শহীদের পক্ষে আয়োজিত ওই সমাবেশে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, আঞ্চলিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাশ্মীরের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে পিপিপিকে নির্বাচিত করতে হবে।
সমাবেশে বিলাওয়াল পিপিপির রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘শাসনের অধিকার, মালিকানার অধিকার এবং কর্মসংস্থানের অধিকার’—এই তিনটি নীতিকে সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আজাদ কাশ্মীর ও গিলগিট-বালতিস্তানের ভবিষ্যৎ কর্মসূচির মূল ভিত্তি হবে এই নীতিগুলো।
তিনি জানান, নির্বাচনের পর আজাদ কাশ্মীর ও গিলগিট-বালতিস্তানে সাংবিধানিক সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। সেখানে বিভিন্ন অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক ও আইনগত সংস্কারের রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে।
বিলাওয়াল বলেন, আজাদ কাশ্মীরের জাতীয় অর্থ কমিশন ও অভিন্ন স্বার্থ পরিষদে আরও শক্তিশালী প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত। পাশাপাশি ভবিষ্যতে অঞ্চলটির জন্য পৃথক একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগের প্রস্তাবও দেন তিনি। তার ভাষায়, কাশ্মীরি রাজনৈতিক নেতারা জনগণ, ইসলামাবাদ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবেন।
আসন্ন নির্বাচনকে আজাদ কাশ্মীরের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করে বিলাওয়াল বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রত্যাশার প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব পিপিপির হাতে তুলে দেওয়ার সুযোগ পাবেন। তিনি বলেন, জুলফিকার আলী ভুট্টো ও বেনজির ভুট্টোর রাজনৈতিক আদর্শ সবসময় নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
নিষিদ্ধ ঘোষিত জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) আন্দোলনের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে বিলাওয়াল আবারও একটি ‘সত্য ও পুনর্মিলন কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, এই কমিশনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অভিযোগ ও অসন্তোষের বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা যেতে পারে।
তিনি জানান, আন্দোলনকারীদের পাঠানো একটি চিঠির জবাবে তিনি প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে, কমিশন গঠনের পর আন্দোলনকারীরা যেন অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন এবং একই সময়ে সরকারও কমিশনের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ স্থগিত রাখে। তবে এ প্রস্তাবে আন্দোলনকারী কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
বিলাওয়াল বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। তার মতে, রাজনৈতিক সংকট দীর্ঘায়িত হলে অরাজনৈতিক ও উগ্রপন্থি শক্তি সেই শূন্যস্থান কাজে লাগানোর সুযোগ পায়। তাই সংলাপের বিকল্প নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।