
ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে টানা ভারি বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে লোহাগড় দুর্গসংলগ্ন এলাকায় ভূমিধসে একটি পরিবার আটকা পড়েছে। পরিস্থিতির অবনতির কারণে পুনে-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়ে এবং পুরোনো মুম্বাই-পুনে মহাসড়ক উভয় দিক থেকেই বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (৬ জুলাই) ভোর ৪টায় ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) মুম্বাই, থানে, পালঘর ও রায়গড় জেলার জন্য তিন ঘণ্টার রেড অ্যালার্ট জারি করে। এতে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়াসহ অতিভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়।
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সোমবার মুম্বাই, থানে ও পালঘরের সব স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয় ৬ জুলাইয়ের নির্ধারিত সব পরীক্ষা স্থগিত করেছে। নতুন পরীক্ষার সূচি পরে জানানো হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, কুরলায় একটি গাছ রাস্তার পাশের দোকানের ওপর ভেঙে পড়লে ৬৩ বছর বয়সি এক ব্যক্তি নিহত হন। সাকি নাকায় জলাবদ্ধতার নিচে ঢেকে থাকা একটি খোলা ম্যানহোলে পড়ে ডুবে মারা যান আরেক ব্যক্তি। চেম্বুরে একটি গাছ স্কুলবাসের ওপর ভেঙে পড়লে ১১ বছর বয়সি এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।
এ ছাড়া নভি মুম্বাইয়ের খারঘরে বর্ষাকালে বিপজ্জনক হওয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত পাণ্ডবকাড়া জলপ্রপাতে প্রবেশ করে দুই যুবক প্রাণ হারান। অন্যদিকে মিরা রোড-ভাইয়ান্দার এলাকায় একটি নারিকেল গাছ মোটরসাইকেল আরোহীর ওপর ভেঙে পড়লে তার মৃত্যু হয়।
লোহাগড় দুর্গের কাছে পাতান গ্রামে ভূমিধসে একটি পরিবার আটকা পড়েছে বলে জানিয়েছেন কোলহাপুর রেঞ্জের আইজিপি রঞ্জন কুমার শর্মা। তাদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।
এদিকে এক্সপ্রেসওয়ের একটি কংক্রিটের স্তম্ভ ধসে পড়া এবং বিকল্প সড়ক মাভাল ও তামিনি ঘাটে জলাবদ্ধতার কারণে পুনে ও মুম্বাইয়ের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি টানেল-২–এর কাছে ভূমিধসের কারণে যান চলাচল অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কারজাত ও লোনাভালার মধ্যবর্তী দক্ষিণ-পূর্ব ঘাট রেলপথে ভূমিধসের ঘটনায় মধ্য রেলওয়ের ট্রেন চলাচলও ব্যাহত হয়েছে।
পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পুনে ও মুম্বাইয়ের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: নিউজ ১৮