যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা

খামেনি হত্যায় ইরানজুড়ে শোকে মাতম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  ০২ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৮


ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছেন। দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত শনিবার সকালে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে তিনি নিহত হন। তাঁর মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও সাত দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। খামেনির মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন শহরে লোকজন সড়কে নেমে শোক প্রকাশ করেন। অনেকের হাতে ছিল খামেনির ছবি। অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সবচেয়ে বড় সমাবেশ হয়েছে তেহরানে। সেখানে ইনকিলাব স্কয়ারে লাখো মানুষ জড়ো হয়ে শোক জানান। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী নানা স্লোগান দিতে থাকেন। 
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যৌথ বাহিনী ইরানের বিভিন্ন শহরে হামলা চালিয়েছে। মেয়েদের একটি স্কুলে চালানো হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৬৫। বিবিসি জানায়, গতকাল এক দিনে ইরানে ৬০টি স্থানে হামলা হয়। এতে কমপক্ষে ৫৭ জন নিহত হয়। পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের তিন সেনা সদস্য নিহত ও ৫ জন গুরুতর আহত হয়। ইসরায়েলের ৯ নাগরিক নিহত হয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোতে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছে। এর মধ্যে আরব আমিরাতে এক বাংলাদেশিসহ তিনজন নিহত ও ৫৮ জন আহত হয়। কুয়েতে প্রাণ গেছে একজনের। আহত হয়েছে ৩২ জন।


তাসনিম, মেহের, প্রেস টিভিসহ ইরানের কয়েক বার্তা সংস্থা গতকাল রোববার ভোরে ঘোষণা করে, ৮৬ বছর বয়সী ইরানের নেতা যৌথ হামলায় ‘শহীদ’ হয়েছেন। এতে বলা হয়, আলি খামেনি তাঁর কার্যালয়ে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করছিলেন। সেখানে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ তাঁর পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন। হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা, নাতিসহ শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা নিহত হন। একটি গোয়েন্দা সূত্র ও সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি লিখেছে, সব মিলিয়ে হামলায় ইরানের ৪০ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ৪৮ জন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। 
বার্তা সংস্থা আনাদোলু লিখেছে, হামলায় খামেনির এক নাতনিও মারা গেছেন। এ ছাড়া নিহত হয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীপ্রধান আব্দোরহিম মুসাভি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ ও বিপ্লবী গার্ডের প্রধান মোহাম্মদ পাকপুরও। গণমাধ্যমগুলোতে বলা হয়, ‘শনিবার সকালের প্রথম কয়েক ঘণ্টায় এ কাপুরুষোচিত হামলাটি ঘটে।’ খামেনির কার্যালয় ও আশপাশের এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে এ হত্যাকাণ্ড ইরানের নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে বড় আঘাতের একটি। 
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তাঁর কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে এ হত্যাকাণ্ডকে ‘একটি মহা অপরাধ’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন। তেহরান থেকে আলজাজিরার তোহিদ আসাদি বলেন, খামেনির হত্যার খবরের পর রাজধানীর রাস্তায় মানুষ নেমে আসে। ইরানজুড়ে অব্যাহত বোমা বর্ষণের মধ্যে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে গত শনিবার তেহরানে হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করেন, ‘ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ব্যক্তিদের একজন খামেনি মারা গেছেন।’ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘অনেক লক্ষণ রয়েছে– সর্বোচ্চ নেতা আর নেই।’ সেই সঙ্গে তিনি ইরানের হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ঘোষণা দেন।
দ্য গার্ডিয়ান অনলাইন জানিয়েছে, তেহরানে শোক প্রকাশে জড়ো হওয়া লোকজন কালো পোশাক পরে; তাদের হাতে ছিল আলি খামেনির ছবি। এ হত্যার প্রতিবাদে পাকিস্তান, ভারতসহ বিশ্বের নানা দেশে বিক্ষোভ হয়েছে।
এ অবস্থায় গতকাল রোববার মার্কিন গণমাধ্যম আটলান্টিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, খামেনির নিহত হওয়ার পর ইরানের বর্তমান নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
আলি খামেনির সঙ্গে আরও যারা নিহত হয়েছেন
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান অনলাইন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আব্দোরহিম মুসাভি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, বিপ্লবী গার্ড বা আইআরজিসির প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর ও প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের প্রধান আলি শামখানিসহ বেশ কয়েকজন উচ্চ পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। হামলাটি ঘটে ‘প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের বৈঠকের সময়’। 
‘নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডে’ সমবেদনা পুতিনের
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির মৃত্যুতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি খামেনির মৃত্যুকে ‘নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড, যা মানবিক নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক আইনের সব নিয়ম লঙ্ঘন’ বলে বর্ণনা করেন। রাশিয়া ইরানের মিত্র। গত বছর দুই দেশ সামরিক সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ করতে সম্মত হয় এবং ২০ বছরের ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ চুক্তি সই করে।
হত্যার ঘটনায় ‘তীব্র নিন্দা’ জানাল চীন
বিবিসি জানায়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার ঘটনায় ‘তীব্র নিন্দা’ জানিয়েছে চীন। তবে তারা সব পক্ষকে সংযত হয়ে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। গতকাল রোববার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার গুরুতর লঙ্ঘন, জাতিসংঘ সনদের নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নিয়মের পরিপন্থি’ বলে উল্লেখ করা হয়।
ভারতে মোদি সরকার নীরব, কংগ্রেসের প্রতিবাদ
খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনায় নীরব ভূমিকায় রয়েছেন দেশটির হিন্দুত্ববাদী নরেন্দ্র মোদি সরকার। তবে এ হত্যার ঘটনায় দৃঢ় ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। তারা বলেছে, ‘আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা না করে আততায়ী হামলায় ইরানের নেতাকে হত্যার তীব্র নিন্দা জানায় কংগ্রেস।’ 
পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি আইআরজিসির 
আলজাজিরা জানিয়েছে, গতকাল রোববার ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী- আইআরজিসি খামেনির হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছে। সেই সঙ্গে নতুন নেতা নির্বাচন করতে গঠন করা হচ্ছে তিন সদস্যের অন্তর্বর্তী কাউন্সিল। আলি খামেনি যে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতেন, নতুন নেতা আসার আগে তারা সেই কাজটি চালিয়ে যাবেন। 
ইরানে প্রথম হামলার পর শনিবার রাতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দেন– আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। তবে তখনও ইরানের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। গতকাল রোববার বিষয়টি ইরান সরকার নিশ্চিত করে। ১৯৮৯ সাল থেকে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তিনি ছিলেন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল লাল রেখা অতিক্রম করেছে: ইরানের স্পিকার 

দ্য গার্ডিয়ান অনলাইন জানায়, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘আমাদের লাল রেখা’ অতিক্রম করেছেন। তাদের অবশ্যই ফল ভোগ করতে হবে। 
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা হামলা নিয়ে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান যেন কোনো পাল্টা হামলা না চালায়। এমনটা করলে এতটাই শক্তি নিয়ে তাদের ওপর হামলা হবে, তারা অতীতে কখনও এমনটা দেখেনি। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ১৮টি প্রদেশে হামলা চালিয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বিভিন্ন সরকারি ও সামরিক স্থাপনাকে। তবে দুটি স্কুলেও হামলা হয়েছে। এতে শতাধিক শিশু নিহত হয়।
খামেনির পথেই এগোবে ইরান– পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক বিবৃতিতে বলেছেন, খামেনির পথেই ‘চলবে’ ইরান। গতকাল রোববার আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন বিষয়েও কথা বলেছেন আরাঘচি। তিনি বলেন, সব ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এক থেকে দুই দিনের মধ্যে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হতে পারেন।
ট্রাম্প ইরানকে আরও শক্তিশালী করেছেন: এমজে আকবর
বিখ্যাত ভারতীয় লেখক ও সাংবাদিক এমজে আকবর বলেন, ‘আমরা এখনও যুদ্ধ শুরুর পর্যায়ে। এটা কোন দিকে যাবে, এখনও নিশ্চিত নয়। তবে কিছু জিনিস এখনই পরিষ্কার। এটি অনিচ্ছাকৃত পরিণতির দিকে এগোতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ যুদ্ধ শুরু করেছেন। তিনি এটা বলেছেন– শাসন ব্যবস্থায় একটি পরিবর্তন আনতে তিনি এটা করছেন। আয়াতুল্লাহ খামেনির হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি হয়তো ইসলামী প্রজাতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করেছেন। শহীদ হয়ে তিনি এখন ইরানিদের জন্য আইকনে পরিণত হয়েছেন।’
এক ভিডিও বার্তায় ভারতের এ রাজনীতিক বলেন, ‘একটি জিনিস খুব পরিষ্কার করছি– ইরান ভেনেজুয়েলা নয়। ভেনেজুয়েলা চালাত ভুয়া সমাজতন্ত্রীরা। ইরানের এমনটা নেই। তারা খামেনির আদর্শ, ইরানের পরিচয় ও জাতীয়তাবাদকে ধারণ করে। তারা মনে করে, এটা ছিল বিনা উস্কানিতে তাদের ওপর চালানো আগ্রাসন। এটা আসলেই খুব শক্তিশালী আবেগ। হয়তো এটা ইরানের শাসনব্যবস্থাকে নতুন জীবন দিয়েছে।’
খামেনি যেভাবে হয়ে ওঠেন সর্বোচ্চ নেতা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শুধু ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব নন, তিনি রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তিনি সরকারপ্রধান নন ঠিকই, কিন্তু কার্যত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ, সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক, দেশের অর্থনীতি ও নীতি নির্ধারণের প্রধান দিকনির্দেশক ও রাষ্ট্রপ্রধানের মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি। অঘোষিতভাবে তিনি বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের নেতা হিসেবেও বিবেচিত হন।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জন্ম ১৯৩৯ সালে ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদ শহরে। তিনি ছিলেন খ্যাতিমান মুসলিম ধর্মীয় নেতার সন্তান। তাঁর পরিবার জাতিগতভাবে আজারবাইজানি। প্রতিবেশী ইরাক থেকে পূর্বপুরুষেরা ইরানে বসতি স্থাপন করেন। প্রথমে তারা উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবরিজে বসবাস শুরু করেন। পরে ধর্মীয় তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত মাশহাদে চলে যান। সেখানে খামেনির বাবা একটি মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
খামেনির মা খাদিজেহ মিরদামাদি ছিলেন কোরআন ও বইপাঠে আগ্রহী। তিনি ছেলের মধ্যে সাহিত্য ও কবিতার প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তোলেন। পরে পাহলভি শাসনবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার সময়ও ছেলেকে সমর্থন দেন। মাত্র চার বছর বয়সে খামেনি কোরআন শিক্ষার মাধ্যমে পড়াশোনা শুরু করেন। মাশহাদের প্রথম ইসলামী স্কুলে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। উচ্চ বিদ্যালয় শেষ না করেই তিনি ধর্মতাত্ত্বিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হন এবং সে সময়ের খ্যাতিমান আলেমদের কাছ থেকে শিক্ষা নেন। 
কুমে অধ্যয়নকালে তিনি বেশ কয়েকজন প্রখ্যাত আলেমের সান্নিধ্যে আসেন। তাদের মধ্যে ছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি, যিনি ১৯৭৯ সালের ইরান বিপ্লবের নেতা ছিলেন। ১৯৭৮ সালে আলি খামেনি গণবিক্ষোভে সক্রিয় অংশ নেন। রাজতন্ত্র উৎখাতের পর খামেনি নতুন ইরানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। ১৯৮০ সালে তিনি স্বল্প সময়ের জন্য প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন। ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পান। 
ইরানে নেতৃত্বে আসছেন কে
সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরান রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের জন্য তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। গতকাল শনিবার আলজাজিরা জানায়, একটি শক্তিশালী সাংবিধানিক নজরদারির সদস্য আয়াতুল্লাহ আলি রেজা আরাফিকে অস্থায়ী কাউন্সিলে নিযুক্ত করা হয়েছে। অন্য দুই সদস্য হলেন– প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেইন মোহসেনি-এজেই।
ইরানের সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুসারে, খামেনির প্রায় ৩৭ বছর শাসনের পর বিশেষজ্ঞ পরিষদ নামে ৮৮ সদস্যের একটি প্যানেল একজন নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন না করা পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ দেশ পরিচালনা করবে। সংবিধান অনুযায়ী, ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব’ নতুন নেতা নির্বাচন করতে হবে। আইআরজিসি এবং ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান আলি লারিজানিও অন্তর্বর্তী কাউন্সিলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি, আয়াতুল্লাহ আলি রেজা আরাফি, ধর্মগুরু মোহাম্মদ মাহদি মিরবাগেরি, খোমেনির নাতি হাসান খোমেনি এবং গোলাম হোসেইন মোহসেনি-এজেই।