
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা ছিল—এমন প্রায় সব ব্যক্তিই নিহত হয়েছেন।
এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, শনিবার পরিচালিত যৌথ হামলা এতটাই সফল ছিল যে সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের অধিকাংশই নির্মূল হয়ে গেছে। এবিসি নিউজের সাংবাদিক জনাথন কার্লকে তিনি বলেন, ‘আমরা যাদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছিলাম, তারা কেউই আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না; কারণ তারা সবাই মৃত। এমনকি দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির নেতারাও নিহত হয়েছেন।’
ইরানের দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর দেশটিতে ক্ষমতা হস্তান্তর কিভাবে হবে—এ নিয়ে নানা আলোচনা চলার মধ্যেই ট্রাম্পের এমন মন্তব্য সামনে এলো।
খামেনিকে হত্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি মারার আগেই আমি তাকে শেষ করেছি। তারা দুবার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু আমিই আগে তাকে কুপোকাত করেছি।’
২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্পকে হত্যার ব্যর্থ ষড়যন্ত্রের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ফেডারেল অভিযোগ গঠন করেছিল। আদালতের নথি অনুযায়ী, ওই ষড়যন্ত্রে জড়িত সন্দেহভাজন ফরহাদ শাকেরিকে ট্রাম্পের ওপর নজরদারি ও হত্যার দায়িত্ব দিয়েছিলেন ইরানি কর্মকর্তারা।
নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া পৃথক এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানেও ভেনেজুয়েলার মতো ক্ষমতা হস্তান্তরের মডেল অনুসরণ করা হতে পারে।
চলতি বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা ভেনেজুয়েলায় যা করেছি, সেটি একটি নিখুঁত উদাহরণ। সেখানে মাত্র দুইজন ব্যক্তি ছাড়া বাকিরা নিজ নিজ পদে বহাল রয়েছেন।’
ইরানের নেতৃত্বে কাকে দেখতে চান—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তার কাছে ‘খুব ভালো তিনটি বিকল্প’ রয়েছে। তবে এখনই তাদের নাম প্রকাশ করতে চান না তিনি। তার ভাষায়, ‘আগে কাজ শেষ হোক, তারপর জানাব।’