রাজা হওয়ার তালিকা থেকে অ্যান্ড্রুকে অপসারণের কথা ভাবছে ব্রিটিশ সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০৩

কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন ব্রিটিশ রাজ পরিবারের সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর। উত্তরাধিকারের তালিকায় আট নম্বরে থাকা সাবেক এই প্রিন্সের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে দেশটির সরকারও। এবার তার নাম ব্রিটিশ সিংহাসনের উত্তরাধিকার তালিকা থেকে রাজা চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রুকে বাদ দিতে আইন বিল আনার কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাজ্য সরকার। খবর বিবিসির।
ইতোমধ্যে অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে। সেই তদন্তে যাই বেরিয়ে আসুক না কেন, এ আইন করাই ‘সঠিক সিদ্ধান্ত’ হবে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী লুক পোলার্ড।

উত্তরাধিকা তালিকা থেকে বাদ পড়লে রাজ হতে পারবেন না অ্যান্ড্রু।
প্রয়াত বিনিয়োগকারী ও দণ্ডিত যৌন নিপীড়ক এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে গত অক্টোবরে ‘প্রিন্স’সহ সব খেতাব হারানো অ্যান্ড্রু এখনও সিংহাসনের দাবিদারদের তালিকায় অষ্টম স্থানে আছেন।
সরকারি দায়িত্বে থাকাকালে অসদাচরণের অভিযোগে পুলিশ বৃহস্পতিবার তাকে হেফাজতে নিয়েছিল। ১১ ঘণ্টা পর তিনি ছাড়া পান। তার বিরুদ্ধে তদন্ত এখনও চলমান। সাবেক এ প্রিন্স অবশ্য কোনো অন্যায় করেননি বলে জোরের সঙ্গে বারবারই দাবি করছেন।
পোলার্ড জানান, তাদের সরকার বাকিংহাম প্রাসাদের সঙ্গে মিলে অ্যান্ড্রুকে ‘সিংহাসনের নিকটতম অবস্থান থেকে অনেক দূরে পাঠাতে’ কাজ করছে। পার্লামেন্টে এমন কোনো আইন উঠলে তা সব দলের সমর্থন পাবে বলেও মনে করছেন তিনি।
তিনি বলেন, তবে এটা ঠিক যে, পুলিশি তদন্ত শেষ হওয়ার পরই এমন কিছু করা ঠিক হবে।
শুক্রবারও উইন্ডসরের ৩০ কক্ষবিশিষ্ট রয়্যাল লজে লগোবিহীন পুলিশের গাড়ি ও ভ্যানকে যেতে আসতে দেখা গেছে। এ রয়্যাল লজেই অ্যান্ড্রু অনেক বছর ছিলেন।
এক পর্যায়ে ওই বাসভবনের বাইরে ২০টির বেশি গাড়িকে পার্ক করা অবস্থায় দেখা গেছে। যদিও সবগুলো গাড়িই তদন্ত ও তল্লাশি কাজে সংশ্লিষ্ট ছিল কিনা তা জানা যায়নি।
অ্যান্ড্রুকে গ্রেপ্তার করেছিল টেমস ভ্যালি পুলিশ, তারা সোমবার পর্যন্তই রয়্যাল লজে তল্লাশি চালাবে বলে ধারণা পাওয়া গেছে।
বিরোধী লিবারেল ডেমোক্র্যাট ও এসএনপিসহ বেশকিছু আইনপ্রণেতা অ্যান্ড্রুকে সিংহাসনের উত্তরাধিকার তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে তাদের সমর্থনের ইঙ্গিত দেওয়ার পর ব্রিটিশ সরকারের এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের বিষয়টি জানা যায়।
তবে রাজতন্ত্রবিরোধী অনেক লেবার সাংসদ এ পদক্ষেপে সন্তুষ্ট নন। তাদের মতে, উত্তরাধিকারীর যে তালিকা, তাতে সাবেক ডিউক অব ইয়র্ক এমনিতেই সিংহাসনের ধারে কাছে ঘেঁষার সুযোগ পেতেন না। যে কারণে এ আইন আদতে কোনো প্রভাবই ফেলবে না।
এর আগে অক্টোবরে ডাউনিং স্ট্রিট বলেছিল, সিংহাসনের উত্তরাধিকার তালিকায় পরিবর্তন আনতে কোনো আইনের পরিকল্পনা তাদের নেই।
আইনটি কার্যকর হতে হলে প্রথমে পার্লামেন্টের দুই কক্ষে অনুমোদিত হতে হবে, এরপর তাতে রাজার সম্মতি লাগবে। সমর্থন লাগবে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জ্যামাইকা, নিউ জিল্যান্ডসহ কমনওয়েলভুক্ত সেই ১৪টি দেশেরও, যেখানে রাজা তৃতীয় চার্লস রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে আছেন।
সর্বশেষ পার্লামেন্টে আইন করে ব্রিটিশ সিংহাসনের উত্তরাধিকার তালিকা থেকে কাউকে ছেঁটে ফেলার ঘটনা দেখা গেছিল ১৯৩৬ সালে। স্বেচ্ছায় সিংহাসন ছেড়ে দেওয়ায় সেবার অষ্টম এডওয়ার্ড ও তার বংশধরদের সিংহাসনের উত্তরাধিকার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে এক সাক্ষাৎকারের পর ‍তুমুল সমালোচনার মুখে ২০১৯ সালেই অ্যান্ড্রু সরকারি সব দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন।