
কিউবার রাজধানী হাভানায় একটি তেল শোধনাগারে আগুন লাগার কিছুক্ষণের মধ্যেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) হাভানার নিকো লোপেজ শোধনাগার থেকে গাঢ কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, কমিউনিস্ট পার্টিশাসিত দ্বীপ দেশটি যখন তীব্র জ্বালানি সঙ্কটে ভুগছে, তখন এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল।
খবরে বলা হয়, কিউবার জ্বালানিমন্ত্রী এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন কেউ হতাহত হয়নি এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। যেখানে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটেছে তার কাছেই হাভানা বে-তে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার নোঙর করা অবস্থায় ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের চাপে কিউবায় ভেনেজুয়েলা থেকে তেল যাওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে দ্বীপদেশটিতে জ্বালানি সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
গত মাসের শুরুতে মার্কিন সেনারা সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে রাজধানী কারাকাস থেকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা প্রতিদিন কিউবায় গড়ে ৩৫ হাজার ব্যারেল তেল পাঠাতো বলে ধারণা করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেলের ট্যাঙ্কারও জব্দ করছে, যা কিউবায় জ্বালানি সরবরাহের সুযোগ আরও কমিয়ে দিয়েছে। যেসব দেশ কিউবায় তেল বেচবে তাদের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা জারিরও হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন।
ভেনেজুয়েলা থেকে তেল ও অর্থের প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কিউবান নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, হয় ‘চুক্তিতে পৌঁছাও’, নয়তো পরিণতি ভোগ করো।
জ্বালানি সঙ্কটের কারণে কিউবায় লোডশেডিংও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। হাসপাতালের জরুরি ওয়ার্ডগুলোতে, রোগীদের ডায়ালাইসিসে ও পাম্পিং স্টেশনগুলোতে এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।
কিউবায় উড়োজাহাজের জ্বালানিরও ঘাটতি দেখা দিয়েছে। যে কারণে অনেক এয়ালাইনসই দ্বীপটিতে তাদের ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের মতো অনেক দেশ ‘প্রয়োজন ছাড়া’ দ্বীপটি ভ্রমণের ব্যাপারে নাগরিকদের সতর্ক করেছে।
তেল নিষেধাজ্ঞা কিউবার জনগণের দৈনন্দিন জীবন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ার সুযোগ ক্রমশ কঠিন করে তুলছে। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার ৮০০ টন ত্রাণ নিয়ে হাভানা বে-তে পৌঁছেছে মেক্সিকোর দুটি জাহাজ।
কিউবায় তেল পৌঁছানোর পর ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞাকে ‘একতরফা অর্থনৈতিক জবরদস্তির চরম রূপ’ হিসেবে দেখছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার টুর্ক বলেছেন, তিনি কিউবার ক্রমবর্ধমান সঙ্কট নিয়ে ‘ব্যাপক উদ্বিগ্ন’।
১৯৬০ সাল থেকে কিউবায় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি দেশটির ওপর চাপ আরও তীব্র করেছে তারা। তবে এসব সত্ত্বেও কিউবার নেতারা বলছেন, তারা লড়ে যাবেন।