
প্রযুক্তির দুনিয়ায় নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করলেন ইলন মাস্ক। তার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স অধিগ্রহণ করেছে তারই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্টার্টআপ এক্সএআই-কে।
মাস্কের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান বেসরকারি কোম্পানিতে পরিণত হলো স্পেসএক্স। যদিও চুক্তির আর্থিক শর্তাবলি প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য, ১২৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এক্সএআই এবং ১ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের স্পেসএক্সের এই মিলনে এক বিশাল শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়েছে।
ইলন মাস্ক তার এক মেমোতে এই একীভূতকরণকে একটি ‘উদ্ভাবনী ইঞ্জিন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি মনে করেন, এই পদক্ষেপের ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রকেট প্রযুক্তি, মহাকাশভিত্তিক ইন্টারনেট এবং মিডিয়া—সবই এক ছাতার নিচে চলে আসবে।
মাস্কের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হলো মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপন করা, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদা মেটাবে। তার মতে, ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানব সভ্যতা গড়ে তোলা এবং মহাবিশ্বের প্রসারে মহাকাশ-ভিত্তিক এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এক্সএআই মূলত ২০২২ সালে এক্স (সাবেক টুইটার) থেকে যাত্রা শুরু করেছিল এবং এর প্রধান পণ্য হলো ‘গ্রোক’ চ্যাটবট। যদিও গ্রোকের ইমেজ জেনারেশন ফিচার নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে তদন্ত চলছে, তবুও বিনিয়োগকারীদের কাছে এর গুরুত্ব কমেনি।
উল্লেখ্য, গত মাসেই মাস্কের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা এক্সএআই-তে ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। মাস্ক টেসলা কারখানায় স্বায়ত্তশাসিত রোবট পরিচালনার জন্য এক্সএআই-কে ‘অরকেস্ট্রা কন্ডাক্টর’ হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছেন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্পেসএক্স সম্ভবত শেয়ার বাজারে আইপিও ছাড়ার প্রস্তুতি হিসেবে এই একীভূতকরণের পথ বেছে নিয়েছে। পিচবুকের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক এমিলি ঝেং মনে করেন, এআই এবং মহাকাশ অবকাঠামোর বিশাল খরচ মেটাতে পাবলিক ইনভেস্টরদের কাছে নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতেই মাস্ক এই ‘সুপার কোম্পানি’ গড়ে তুলছেন।
মাস্কের অন্য দুই ছোট প্রতিষ্ঠান নিউরালিঙ্ক এবং দ্য বোরিং কোম্পানি বাদে এখন তার প্রায় সব বড় ব্যবসাই একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হলো।
সূত্র: বিবিসি।