
সাংবাদিকতা, ইতিহাস গবেষণা, শিক্ষা ও সমাজসেবায় দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে লেখক ও গবেষক ফারুক আহমদকে ‘লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান করেছে লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাব।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) লন্ডনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তার হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
ফারুক আহমদ যুক্তরাজ্যে প্রবাসী বাঙালির ইতিহাস গবেষণায় পরিচিত একটি নাম। তিনি ১৯৬৪ সালের ২২ জানুয়ারি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার গোয়াসপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই সাহিত্যচর্চা ও সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে প্রবাসী বাঙালি সমাজের ইতিহাস, রাজনীতি ও সংস্কৃতি নিয়ে নিয়মিত গবেষণা করেন।
১৯৮৯ সাল থেকে তিনি লন্ডনে বসবাস করছেন। লন্ডন থেকে প্রকাশিত মাসিক লন্ডন বিচিত্রা পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি রেডিও বাংলাদেশ সিলেটের অনুমোদিত গীতিকার ও নাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন।
শিক্ষাক্ষেত্রেও তার অবদান রয়েছে। নিজ এলাকায় তিনি রাণাপিং আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রতিষ্ঠাকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি গোলাপগঞ্জ কোয়ালিটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। পাশাপাশি গোয়াসপুর কুতুব আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
গবেষণামূলক লেখালেখিতে ফারুক আহমদের অবদান আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃত। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে বিলাতে বাংলা সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা, বিলাতে বাংলার রাজনীতি, গোলাপগঞ্জের ইতিহাস, সাপ্তাহিক জনমত: মুক্তিযুদ্ধের অনন্য দলিল, বিলাতে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা, বিলাতে বাঙালি অভিবাসন এবং সর্বশেষ সিলেটের ইতিহাস: ব্রিটিশ আমল।
এ ছাড়া ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত তার একাধিক গ্রন্থ ব্রিটেনে বাঙালি অভিবাসন ও সাংবাদিকতার ইতিহাসচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গবেষণামূলক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১৩ সালে বাংলা একাডেমি প্রবাসী লেখক পুরস্কার লাভ করেন।
লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাব জানায়, ‘History of Immigrants, History of Sylhet, Education and Social Work’ ক্যাটাগরিতে তাকে এবারের আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে।
এই সম্মাননার মাধ্যমে প্রবাসে বাঙালি সমাজের ইতিহাস সংরক্ষণ, শিক্ষা বিস্তার ও সাংবাদিকতায় তার দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি মিলল বলে আয়োজকেরা জানান।