
দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্লোরিডা ইউএসএ শুধু একটি সংগঠনের নাম নয়, এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের ইতিহাস, ঐক্য ও সম্মানের প্রতীক। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বৃহৎ ও প্রাচীন এই সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে গৌরবময় ভূমিকা রেখে চলেছে।
সংগঠন সংশ্লিষ্টদের মতে, সময়ের প্রয়োজনে নেতৃত্বের পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক ও অপরিহার্য প্রক্রিয়া। নতুন নেতৃত্বের আগমন, নেতৃত্বের বিকাশ এবং সাংগঠনিক পুনর্গঠন সংগঠনের গতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এই পরিবর্তন অবশ্যই সৌহার্দ্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে হওয়া প্রয়োজন। তারা আরও মনে করেন, সিনিয়র ও জুনিয়র সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান এবং সুযোগের সুষম বণ্টন নিশ্চিত না হলে কোনো সংগঠন দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারে না। সিনিয়রদের অভিজ্ঞতা ও অবদান যেমন সংগঠনের জন্য অমূল্য, তেমনি নতুনদের উদ্যম, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যৎ পথচলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ভারসাম্য বজায় রাখতে পারলেই বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ফ্লোরিডা আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হয়ে উঠবে।
প্রবাস জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে সংগঠনের দায়িত্বশীল মহল আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অনৈক্য ও বিভাজনের রাজনীতি যে কোনো সংগঠনকে দুর্বল করে দেয়। ভবিষ্যতে ভাঙনের রাজনীতি পরিহার করে ঐক্য, সহযোগিতা ও সমন্বয়ের ধারাই যেন সংগঠনের মূল শক্তি হয়ে ওঠে—এটাই সবার প্রত্যাশা। এই প্রেক্ষাপটে সংগঠনের সম্মানিত সিনিয়র নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, তারা যেন আগের মতোই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন এবং সময়োপযোগী হস্তক্ষেপের মাধ্যমে যেকোনো ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটান। এতে করে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ ফ্লোরিডার ঐতিহ্যবাহী আয়োজন—বিশেষ করে এশিয়ান ফুড ফেয়ারসহ অন্যান্য কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই প্রাচীন সংগঠনটি টেকসই হয়ে থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।