সময় শেষ হওয়ার পরও বই খুলে পরীক্ষা দিল পরীক্ষার্থীরা

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:৪২

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার একটি দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও দরজা-জানালা বন্ধ রেখে পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র লেখার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
গত রবিবার (২৬ এপ্রিল) উপজেলার শঠিবাড়ি ইসলামী সিনিয়র মাদ্রাসা কেন্দ্রে গণিত পরীক্ষার দিন এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সকাল ১০টায় শুরু হওয়া পরীক্ষা নিয়ম অনুযায়ী দুপুর ১টায় শেষ হওয়ার কথা। তবে সময় শেষ হওয়ার পরও কয়েকটি কক্ষে দরজা-জানালা বন্ধ রেখে বই খুলে উত্তর লেখার সুযোগ দেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে দুপুর ১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সংবাদকর্মীরা দুপুর ১টা ৯ মিনিটের দিকে কয়েকটি কক্ষে গিয়ে পরীক্ষার্থীদের বই খুলে লিখতে দেখেন। এ সময় দায়িত্বরত এক পরিদর্শক খাতা সংগ্রহে দেরির জন্য স্ট্যাপলার মেশিন না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
এক পরীক্ষার্থী রওশন হাবিব অভিযোগ করেন, তাদের কক্ষ থেকে সময়মতো খাতা নেওয়া হলেও পাশের কয়েকটি কক্ষে বই দেখে লেখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছিল। এ বিষয়ে অভিযোগ করলে কেন্দ্র সচিব আবদুল লতিব মিয়া তাকে শাসান এবং ‘দেখে নেওয়া হবে’ বলে হুমকি দেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে নির্ধারিত সময়ের পরও কিছু কক্ষে বই-খাতা খোলা অবস্থায় পরীক্ষা দিতে দেখা যায়। আরেকটি ভিডিওতে এক পরীক্ষার্থীকে শাসানোর দৃশ্যও দেখা গেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
ঘটনাস্থলে থাকা এক সংবাদকর্মী জানান, কেন্দ্র সচিবের কক্ষের সিসিটিভি মনিটরে এক পরীক্ষার্থীকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা যায়। পরে একটি মোবাইল পরীক্ষা করে দেখা যায়, ‘আরাফাত’ নামে একজন ব্যক্তি মেসেজের মাধ্যমে বহুনির্বাচনী প্রশ্নের উত্তর পাঠিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কেন্দ্র সচিব আবদুল লতিব মিয়া। তিনি বলেন, ‘ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে একটি কক্ষে খাতা সংগ্রহে কিছুটা দেরি হয়েছে। কোনো অনিয়ম হয়নি।’
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. পারভেজ বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি। খাতা জমা নিতে স্বাভাবিক যে সময় লাগে, তার বাইরে কোনো অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’