যুক্তরাষ্ট্রে এক দশকে সর্বোচ্চ স্টুডেন্ট-ভিসা আবেদন বাতিল

ডেস্ক রিপোর্ট
  ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৫৪

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কলেজ ও ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির সকল শর্ত পূরণ করে আর্থিক স্বচ্ছলতার গ্যারান্টি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও স্টেট ডিপার্টমেন্টের ইস্যু করা আই-২০-সহ সংশ্লিষ্ট দেশে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলার অফিসগুলোতে স্টুডেন্ট ভিসা অর্থ্যাৎ ম‘এফ-১ ভিসা’র জন্য আবেদন করার পর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভিসা আবেদন নাকচ করা হচ্ছে। ২০২৫ সালে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন নাকচের হার বেড়েছে ৩৫ শতাংশ, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।
ছাত্র ভিসা আবেদন বাতিলের তালিকায় ভারত ও আফ্রিকান দেশগুলোর সবচেয়ে বেশি। ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন নীীতর আওতায় যেকোনো ক্যাটাগরির ভিসা আবেদনকারীর ব্যাপারে কঠোর পরীক্ষি-নিরীক্ষার কারণ্ইে উচ্চ শিক্ষার্থে যুক্তরাষ্ট্রে আসতে প্রস্তুত ছাত্ররা এখন বিপাকে পড়েছেন।
এদিকে, ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টেন ইমিগ্রেশন বিরোধী কিছুটা ভাটা পড়েছে গত জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত। গণমাধ্যমে প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী আটক অবৈধ অভিবাসী সংখ্যা গত তিন মাসে প্রায় ১২ শতাংশ কমেছে।
কংগ্রেসে বাইপার্টিজান ইমিগ্রেশন সংস্কারের জন্য প্রস্তাবিত ‘ডিগনিটি অ্যাক্ট’ নিয়ে বিতর্ক চলার পর্যায়ে অবৈধ ইমিগ্রান্ট আটক ও বহিস্কারে ভাটা পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন ইরান যুদ্ধে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় গত মার্চ থেকে ‘আইস’ এর অভিযান হ্রাস পেয়েছে।
‘গ্লোবাল সাউথ’ নামে এক সংস্থার হিসাব অনুযায়ী গতবছর এফ-১ ভিসা আবেদন নকচের দিক থেকে একক দেশ হিসেবে ভারতের ছাত্রদের ৬১ শতাংশ আবেদনই নাকচ করা হয়েছে। আফ্রিকার দেশগুলোর ছাত্রদের আবেদন নাকচের হার গড়ে ৬৪ শতাংশ। কোনো কোনো দেশের ক্ষেত্রে ছাত্র ভিসার আবেদন নাকচের হার অনেক বেশি। সিয়েরা লিওন ও সোমালিয়ার আবেদনকারী ছাত্রদের আবেদনের ৯০ শতাংশের বেশি বাতিল করা হয়েছে। ট্রাম্প যুগে ভিসা ইস্যু করার ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের তৎপরতা এবং আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য কঠোরভাবে যাচাই করার ফলে ছাত্রদের ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
নিউজউইকের এক নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বরাবর মেধা-ভিত্তিক ছাত্রভর্তির যে নীতি অনুসরণ করা হচ্ছিল, তা ক্ষুন্ন হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলার অফিসগুলোর স্থানীয় সিদ্ধান্তে ভিসা প্রত্যাখ্যার কারণে। নিবন্ধে আরও বলা হয়, কোনো মেধাবী বিদেশি ছাত্রের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করার জন্য ভিসা প্রদান করা বা না করা যখন তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও আর্থিক সামর্থ যাচাই-বাছাইয়ের পরিবর্তে তারা কোন দেশে জন্মগ্রহণ করেছে এবং সেই দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কেমন তা বিবেচনা করা হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ব্যবস্থার মৌলনীতির ওপর আঘাত হানা হয়।