
বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন ঘিরে জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠনের নির্বাচন আগামী ২৫ অক্টোবর। অনুষ্ঠেয় নির্বাচন সামনে রেখে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেল ও দুইজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ৪৪ জন। মনোনয়ন জমার দিনেই নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে প্রার্থী-সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি, ব্যানার-ফেস্টুন, স্লোগান আর পাল্টাপাল্টি শোডাউনে। দুই প্যানেলই শক্তি প্রদর্শনে ছিল সমান সক্রিয়। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর আগেই বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনকে ঘিরে কমিউনিটিতে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৫ অক্টোবর, রোববার বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল অনুযায়ী ৬ সেপ্টেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন। এদিন উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়। তবে সন্ধ্যা ৭টার পর থেকেই প্রার্থী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে।উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে মনোনয়নপত্র দাখিলের কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের সব প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। আবু নাসের বলেন, “একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে আমরা সবার সহযোগিতা চাই।”এবারের নির্বাচনে দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে। পাশাপাশি দুটি পদে দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। দুই প্যানেল থেকে ২১ জন করে মোট ৪২ জন এবং দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ৪৪টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।
মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের এবং নির্বাচন কমিশনের সদস্য রুহুল আমিন সরকার, আহবাব চৌধুরী খোকন, বদরুল হোসেন খান, শামসুদ্দীন আজাদ, মিয়া মোহাম্মদ দুলাল ও মিঠু হামিদ।প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের জানান, এবারের নির্বাচনে মোট ৪৮টি মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে। এতে আয় হয়েছে ২৪ হাজার ডলার। অন্যদিকে ৪৪টি মনোনয়নপত্র জমা বাবদ আয় হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ডলার। মনোনয়নপত্র বিক্রি ও দাখিল—দুই খাত মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনের মোট আয় হয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ডলার। নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী আগামী ১০ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। পরদিন ১১ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করা হবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা। এরপরই পুরোদমে শুরু হবে নির্বাচনী প্রচারণা।
প্রথমে কুনু-ফিরোজ প্যানেল
প্রথমে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করেন কুনু-ফিরোজ প্যানেলের প্রার্থীরা। সভাপতি প্রার্থী আজমল হোসেন কুনু মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর পদের ক্রমানুসারে অন্য প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
এই প্যানেল থেকে মোট ২১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরে তারা নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। কুনু-ফিরোজ প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন— সভাপতি আজমল হোসেন কুনু, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ, সিনিয়র সহসভাপতি দুলাল বেহেদু, সহসভাপতি আবুল কালাম ভূঁইয়া, সহসাধারণ সম্পাদক নওশাদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া রুমি, সাংগঠনিক সম্পাদক জামিল আনসারী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রুশদী আহমেদ চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক সাঈদ গাউছুস আলম, সমাজকল্যাণ সম্পাদক কয়েস আহমেদ, সাহিত্য সম্পাদক বাবুল আকতার, ক্রীড়া সম্পাদক মোর্শেদ আলম, স্কুল ও শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মাঈন উদ্দীন নাটু, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক মেহের বেগম চৌধুরী, যুব ও আইটিবিষয়ক সম্পাদক কাজী হাসান এবং কার্যকরী সদস্য সিরাজুদ্দৌলা হক (বাশার ভূঁইয়া), এবি সিদ্দিক পাটোয়ারি, প্রফেসর আব্দুল বাসির, মাছুদুল হক সানু, মোহাম্মদ কায়সার আলম ও মোহাম্মদ এম ইসলাম (মনিরুল ইসলাম)।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় কুনু-ফিরোজ প্যানেলের বিপুলসংখ্যক সমর্থকের পাশাপাশি তাদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
সবশেষে সেলিম-আলী প্যানেল : সবশেষে মনোনয়নপত্র জমা দেন সেলিম-আলী প্যানেলের প্রার্থীরা। সভাপতি প্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম প্রথমে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এরপর পদের ক্রমানুসারে প্যানেলের অন্য প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের কাছে তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন।
সেলিম-আলী প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন— সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সিনিয়র সহসভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহসভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সহসাধারণ সম্পাদক হারুণ অর রশীদ, কোষাধ্যক্ষ নওশাদ হায়দার, সাংগঠনিক সম্পাদক ডিউক খান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অনিক রাজ, প্রচার সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মনসুর আহমেদ, সাহিত্য সম্পাদক রুমানা আহমেদ, স্কুল ও শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মাইনুদ্দীন বাবুল, ক্রীড়া সম্পাদক হাসান খান, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক শাহনাজ হোসেন, যুব ও আইটিবিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর সরওয়ার্দী এবং কার্যকরী সদস্য উজ্জ্বল বিপুল, সরওয়ার খান বাবু, শামীম আহমেদ, কাজী রবিউজ্জামান, আবদুল মান্নান ও আব্দুল মালেক খান। মনোনয়নপত্র দাখিলের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সোসাইটির এবারের নির্বাচনের প্রথম বড় আনুষ্ঠানিক ধাপ শেষ হলো। এখন নজর ১০ সেপ্টেম্বরের মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং ১১ সেপ্টেম্বরের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণার দিকে। এরপর দুই প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রচারণায় নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নির্বাচনী উত্তাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন
কুনু-ফিরোজ প্যানেলের পর মনোনয়নপত্র জমা দেন স্বতন্ত্র সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী সৈয়দ রাব্বী। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করতে আসেন। এ সময় তার কয়েকজন সমর্থকও উপস্থিত ছিলেন। এরপর সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী শক্তিদাস গুপ্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। ফলে দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেলের বাইরে সাধারণ সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক—এই দুই পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপস্থিতি নির্বাচনী লড়াইয়ে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।
পুরোনো প্যানেলে ভাঙাগড়া
দুই প্যানেল থেকেই ২১ জন করে প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলেও এবারের প্যানেল গঠনে দেখা গেছে বেশ কিছু ভাঙাগড়া। গত নির্বাচনের সেলিম-আলী প্যানেলের কয়েকজন প্রার্থী এবার কুনু-ফিরোজ প্যানেলে যোগ দিয়েছেন। আবার আগের তালিকা থেকে কয়েকজন বাদ পড়েছেন। ফলে নির্বাচনের মাঠে পুরোনো সমীকরণের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে নতুন মেরুকরণ। ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকেই দুই প্যানেলের প্রার্থী ও সমর্থকেরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনই দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক শোডাউনের প্রতিযোগিতা চোখে পড়ে। সমর্থকদের উপস্থিতি ও উৎসাহে দুই প্যানেলই ছিল সমান সক্রিয়—কেউ কারও চেয়ে পিছিয়ে ছিল না।