
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়েছে নিউ ইয়র্কে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে ডাইভার্সিটি প্লাজায় ‘ইউনাইটেড হিন্দুস অব ইউএসএ ইনক’ এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
সমাবেশে ইউনাইটেড হিন্দুস অব ইউএসএ’র সাংস্কৃতিক সম্পাদক সুতিপা চৌধুরী বলেন, “একের পর এক হত্যা, ধর্ষণ, খুনের ঘটনা ঘটছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু তথা হিন্দুরাই বেশি আক্রান্ত হলেও মুসলমানের একটি অংশেরও আজ নিরাপত্তা নেই। মানবাধিকার বিপন্ন, নিজ ঘরেও মানুষ নিরাপদ নন।
“পুলিশ-প্রশাসন সত্যিকারের অপরাধীদের গ্রেপ্তার তো দূরের কথা, শনাক্তেও যথাযথ দায়িত্ব পালন করছে না। এরপরও সেই সুশীল সমাজ আজ নীরব।”
ইসকনের নেতা ও ইউনাইটেড হিন্দুস অব ইউএসএ’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান নিত্যানন্দ কিশোর দাস বলেন, “একের পর এক হিন্দু আক্রান্ত হচ্ছেন। আমরা প্রতিটি ধর্ষণ, হত্যার পর এখানে জড়ো হচ্ছি। প্রতিবাদ জানাচ্ছি। কিন্তু তা থামছে না। এমন অসহনীয় বর্বরতা থামবে না, যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে না পারি।”
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা নবেন্দু বিকাশ দত্ত বলেন, “বাংলাদেশে ধারাবাহিকভাবে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যা এবং শিক্ষক সমাজের ওপর বহিষ্কার, হয়রানি, নির্যাতন ও হামলার ঘটনা ঘটেই চলছে।
“এসব ঘটনায় জনমনে গভীর উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার বাস্তব চিত্র ফুটে উঠছে। নাগরিকের জীবন ও মর্যাদা রক্ষা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। আমরা অবিলম্বে এসব ঘটনার কার্যকর প্রতিকার ও প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
গত ২২ অগাস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় নিজেদের বাসায় রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী এবং স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী রংপুরের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
২৩ অগাস্ট ভোরে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা দুজনই নিহতদের পরস্পরের আশপাশের এলাকার বাসিন্দা। সেদিন বিকালেই তারা আদালতে জবানবন্দি দেন।
প্রথমে মামলাটির তদন্তভার ছিল কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জির ওপর। সোমবার মামলার তদন্তভার কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছ থেকে মহানগর ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। পরে ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
জিন্নাত আলী এর আগে বলেন, “হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় ২০ অগাস্ট রাতে। সেই রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ তাদের বন্ধু সীমান্ত দাসের বাড়িতে গিয়ে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে আদালতে সীমান্ত জানিয়েছেন।”
এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করে টাইমস স্কয়ারে দুর্গাপূজা উদযাপন পরিষদের প্রেসিডেন্ট দীনেশ মজুমদার বলেন, “গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের হত্যাকাণ্ডের দ্রুত, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত করতে হবে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত প্রত্যেক অপরাধীকে অবিলম্বে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে।
“এহেন জঘন্য অপকর্ম রুখতে রাষ্ট্র নীরবতা অবলম্বনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের হিন্দু সমাজকেও প্রতিরোধ রচনা করতে হবে।”
ইউনাইটেড হিন্দুস এর প্রেসিডেন্ট ভজন সরকার, সেক্রেটারি সুশীল সিনহা, ট্রেজারার সঞ্জিব ঘোষ, বিকাশ মজুমদার, জয়দেব গায়েন, প্রিয়তোষ দে, প্রদীপ কুন্ডু বক্তব্য দেন।