‘কমন শত্রুর’ বিরুদ্ধে ঐক্য বহাল রাখার আহ্বান নজরুল ইসলাম খানের

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০


‘কমন শত্রুর’ বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঐক্য বহাল রেখে দেশের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, যারা আমাদের কমন শত্রু, তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঐক্যটা বহাল থাকুক। কেন নিজেদেরকে তাদের পক্ষভুক্ত করছেন? কোনো লাভ হবে না। আমাদেরকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহিলা দল আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান। পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার বিরুদ্ধে সমাবেশ ও মিছিলের এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশের জনগণের সংকট-দুঃসময়ে বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে থেকেছে এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে জবাই করেছে, বিএনপি গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে। 
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে একদলীয় শাসন কায়েম করা হয়েছিল। ‘বাকশাল’ নামক একটি মাত্র দল করে বাকি সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সেই বাকশালী শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৮২ সালে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে এরশাদ সামরিক স্বৈরশাসন কায়েম করেছিলেন। সেই শাসন স্থায়ী করতে কয়েকটি রাজনৈতিক দল তাকে সহযোগিতা করেছিল।
নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দল ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও বিএনপি জনগণের সঙ্গে বেইমানি করেনি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য আপসহীন লড়াই চালিয়ে গেছে। এর ফলেই ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয় এবং বিএনপি বহুদলীয় ও সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, এক-এগারোর সরকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বিকৃত ও ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে এবং ষড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনা হয়েছে। ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগ স্বৈরাচারী শাসন করেছে এবং ফ্যাসিবাদে পরিণত হয়েছে। এই শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এবং তার অনুপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অব্যাহত লড়াই করেছে বিএনপি।
তিনি বলেন, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের যত নেতাকর্মী এই লড়াইয়ে শহীদ, গুম, নির্যাতিত ও জুলুমের শিকার হয়েছেন, বাংলাদেশের আর সব রাজনৈতিক দল মিলেও তত মানুষ গুম-খুনের শিকার কিংবা অত্যাচার-নিপীড়নের শিকার হয়নি। তিনি আরও বলেন, গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ আবার বিএনপির প্রতি আস্থা রেখে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় দলটিকে নির্বাচিত করেছে। বর্তমানে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। ‘এটা ক্ষমতা নয়, এটা দায়িত্ব।’
নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশের কল্যাণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। উন্নয়নকাজ ব্যাহত হলে সাধারণ মানুষ, শ্রমজীবী ও কর্মজীবী মানুষের কষ্ট হবে। বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের কোনো কথা বা কাজে যেন পতিত স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সুবিধা না হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দিয়েছে এবং এ কার্ডের আওতায় পরিবারের প্রধান নারী সদস্যকে মাসে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক দেওয়ার জন্য ‘কৃষক কার্ড’ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের বিরোধিতা না করে এর চেয়ে ভালো পরিকল্পনা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। 

এ সময় মহিলা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।