
১১ দলীয় ঐক্যের লং মার্চ সরকারের পদত্যাগ বা সরকার পতনের আন্দোলন নয়, এটি সরকারের জন্য ‘ওয়েক-আপ কল’ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াত ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের।
সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা তাহের বলেছেন, “এই মুহূর্তে আমরা সংসদে এবং সংসদের বাইরে যে লং মার্চ বা আন্দোলনে আছি তা সরকারের পদত্যাগ বা সরকারপতনের আন্দোলন নয়, এটা সরকারের জন্য ওয়েক-আপ কল।”
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচারসহ ছয় দফা দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ‘লং মার্চ’ কর্মসূচি শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট ১১ দলীয় ঐক্য।
এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার দুপুরে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে এক পথসভায় এসব কথা বলেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের।
কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য তাহের বলেন, “জনগণের চাহিদা এবং দাবি জানাতেই এই আন্দোলন। আমরা আশা করব এই আন্দোলনের পর সরকারের বোধোদয় হবে। সমস্যা সমাধানে তারা যৌক্তিক পরিকল্পনা করবে।“
কুমিল্লায় এ পথসভার শুরুতে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুমসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
এর আগে সকাল ৭টায় রাজধানীর মতিঝিলে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশের পর সোয়া ৮টায় লং মার্চের গাড়িবহর চট্টগ্রামের পথ ধরে।
পথে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজের কাছে ট্রাক স্ট্যান্ড পথসভা হয়। কুমিল্লার পরে ফেনীর মহীপাল এবং মীরসরাইয়ে পথসভা হবে বলেও আয়োজকরা জানিয়েছেন।
সবশেষ চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে জনসভার মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচি শেষ হবে।
গত ৬ অগাস্ট ঢাকার মুক্তাঙ্গনে জোটের এক অবস্থান কর্মসূচি থেকে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা থেকে চারটি বিভাগীয় শহরে ‘লং মার্চ’ ও মহাসমাবেশ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন জোটের শীর্ষ নেতা শফিকুর রহমান।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবারের পর আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটে (রেলপথে) লং মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।