লং মার্চের কারণে জ্বালানি সংকট বাড়ছে: রাশেদ খাঁন

ডেস্ক রিপোর্ট
  ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:২৫

জামায়াত জোটের লং মার্চ কর্মসূচির কারণে জ্বালানি সংকট আরও বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
তিনি বলেছেন, “রাস্তাঘাট বন্ধ রাখায় ও ১ লাখ লিটার তেল অপচয় করার কারণে জনভোগান্তি ও জ্বালানি সংকট আরও বাড়ছে।”
শনিবার সকাল পৌনে ১০টায় ফেইসবুক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিদ্যমান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলছেন, “সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ-জ্বালানি-গ্যাস নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংকট সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান রাখে। ৬ মাসের সরকারের উপর ১৮-২০ বছরের সমস্যা, সংকট ও অব্যবস্থাপনার দায় চাপানোর চেষ্টা মূর্খতার শামিল।”
এদিনই ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ‘লং মার্চ’ করছে জামায়াত জোট। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন; জুলাই গণহত্যার বিচার; বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন; নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, ১১ দলীয় ঐক্যের এ কর্মসূচি নিয়ে সাধারণ মানুষের কোনো আগ্রহ নেই, অংশগ্রহণও নেই।
“তারা ভেবেছিল রাস্তার দুই ধারে জনতার ঢল নামবে! জামায়াতের আমিরের গাড়ি জনতার উপচে পড়া ভিড়ে যেতে পারবে না! কিন্তু লংমার্চে এতো দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের পরেও সাধারণ মানুষকে টানতে পারেনি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ৯ দলীয় জোট (২ দল জামায়াত জোট ছেড়েছে)।”
বিরোধী দলগুলোর লং মার্চ কর্মসূচির বিরোধিতা করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ বলেছেন, “ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দৈনিক হাজার হাজার যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ি যাতায়াত করে। জামায়াতের লংমার্চের কারণে এই গাড়িগুলো বন্ধ আছে। এতে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার লোকসান হবে।”
গত ৬ অগাস্ট ঢাকার মুক্তাঙ্গনে জোটের এক অবস্থান কর্মসূচি থেকে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা থেকে চারটি বিভাগীয় শহরে ‘লং মার্চ’ এবং রাজধানীতে মহাসমাবেশ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন জোটের শীর্ষ নেতা শফিকুর রহমান।
ওই কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবারের পর আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটে (রেলপথে) লং মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, “স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সংসদ বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সরকার করে যাচ্ছে। সুতরাং বিরোধীদলের ৬ দফায় জনগণের কোনো আগ্রহ নাই।”
রাশেদ খাঁন লিখেছেন, “সম্পূর্ণ দলীয় স্বার্থে এবং মিথ্যাচার ও প্রতারণাকে পুঁজি করে জনগণের উপর একপ্রকার জোরপূর্বক লংমার্চ নামক আন্দোলন উপর চাপিয়ে দিয়েছে জামায়াত।”