মির্জা ফখরুলই কি হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি? শেষ মুহূর্তের আলোচনায় আরও যাদের নাম

ডেস্ক রিপোর্ট
  ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০০:১১

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে বলে বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি বাংলা। তবে এ বিষয়ে এখনো দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
দলীয় সূত্রগুলোর দাবি, রাষ্ট্রপতি পদে একজন সক্রিয় রাজনীতিবিদকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সেই আলোচনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামই গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট নেতারা জানিয়েছেন। তবে শেষ মুহূর্তের আলোচনায় মির্জা ফখরুলের পাশাপাশি দলের আরও তিন জ্যেষ্ঠ নেতার নামও উঠে আসছে। 
দলীয় রাষ্ট্রপতি মনোয়নে শীর্ষ নেতা ছাড়াও সবচেয়ে সক্রিয়া ভূমিকা রাখে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি। তবে এই কমিটি এবার রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের ভার দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিয়ে রেখেছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা বলেন, দলের শীর্ষ নেতা ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তার ভাষ্য, ওই আলোচনায় মির্জা ফখরুলের নামই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
দলীয় নেতাদের মতে, বিএনপি এবার রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় একজন অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য রাজনীতিককে দেখতে চায়। সে বিবেচনায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দল পরিচালনায় ভূমিকা এবং জাতীয় রাজনীতিতে গ্রহণযোগ্যতার কারণে মির্জা ফখরুলের নাম সামনে এসেছে।
তাদের মতে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের সময়টাতে দমন-পীড়ন, নির্যাতনে বার বার বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল বিএনপি। দলটির শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়াকে বয়সের শেষ প্রান্তে কারাগারে থাকতে হয়েছে। তাদের আরেক শীর্ষ নেতা তারেক রহমান ছিলেন লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে।
শীর্ষ দুই নেতার অনুপস্থিতিতে লম্বা সময় ধরে বিএনপির সংকটে এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে দেশের ভেতরে মির্জা ফখরুল ছিলেন দৃশ্যমান মূল নেতৃত্বে।
বিএনপি শীর্ষ পর্যায়ের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, লন্ডনে নির্বাসনে থেকেই তারেক রহমান তাদের দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু দেশে রাজনীতির মাঠে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম সংগঠিত করা এবং বিএনপিকে ঐকবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পেয়েছিলেন।
মির্জা ফখরুলের এ ভূমিকাকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ণ করেন বলে দলটির একাধিক নেতা বলছেন।
তারা বলছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং পরে মহাসচিব হিসেবে দলের ভেতরে-বাইরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরে যে অবস্থান তৈরি হয়েছে, সে প্রেক্ষাপটে তাকে সম্মান দেওয়ার বিষয় বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে তাদের দলে।
একইসঙ্গে তারা বলছেন, বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী যদিও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত। কিন্তু অতীতে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক বা সাংবিধানিক সংকটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিলেন রাষ্ট্রপতি।
এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার জন্য তিন মাসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরত আনা হয়েছে। অতীতে সেই সময়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দিয়েছিল রাষ্ট্রপতির ভূমিকা।
এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেও বিএনপি সরকার এবার দলের ভেতর থেকে সক্রিয় রাজনীতিবিদকে রাষ্ট্রপতি করার অবস্থান নিয়েছে বিএনপি।
মির্জা ফখরুল ছাড়াও রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান এবং ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও আলোচনায় রয়েছে।
মির্জা ফখরুলকে নিয়ে দলটির ভেতরে ভিন্নমতও রয়েছে। একাংশের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করা উচিত। অন্যদিকে আরেকটি অংশের মত, সরকার ও দল পরিচালনায় তার মতো অভিজ্ঞ নেতার সক্রিয় ভূমিকা এখনও প্রয়োজন। দল অনেকটাই ভারসাম্যহীনতায় ভুগবে তাকে রাজনীতি থেকে অবসরে পাঠালে। এছাড়া মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করা হলে নতুন মহাসচিব নিয়োগ দিতে হবে বিএনপিকে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নতুন একজনকে নিয়োগ দিতে হবে।
উল্লেখ্য, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে নির্বাচন কমিশন আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে।
রাষ্ট্রপতি পদে কাকে বিএনপি মনোনয়ন দেবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেওয়া হয়েছে। তিনি শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।