বহিষ্কৃত শিবির নেতা জিসান অসুস্থতার ভান করছেন

পুলিশ
ডেস্ক রিপোর্ট
  ১৫ জুন ২০২৬, ২৩:৩৬


কুমিল্লায় পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া অসুস্থতার ভান করছেন। তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা তাকে সুস্থ দেখেছেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এদিকে কুমিল্লা ডিবির ওসি মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ বলেছেন জিসান সুস্থ আছেন। গ্রেফতারের কথা শোনার পর থেকে তিনি চোখ বন্ধ করে অসুস্থতার ভান করছেন। মঙ্গলবার মেডিকেল বোর্ড প্রতিবেদন দাখিলের পর তাকে আদালতে সোপর্দ করবে পুলিশ। 
পুলিশ জানায়, কুমিল্লার দাউদকান্দিতে এক নারীকে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে করা মামলায় শিবির নেতা জিসান মিয়াকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। কিন্তু তিনি নিজেকে ‘অসুস্থ দেখিয়ে’ পুলিশি হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এতে তাকে গ্রেফতার করা হলেও আদালতে পাঠাতে পারেনি পুলিশ।
এমন পরিস্থিতিতে জিসান অসুস্থ কিনা, সেটি জানতে চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে কুমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সোমবার বোর্ডের সদস্যরা তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। এতে তিনি সুস্থ রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে একটি প্রতিবেদন দেন। 
মেডিকেল বোর্ডের সদস্য সচিব ও হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান মজুমদার বলেন, দীর্ঘ সময় নিয়ে জিসানের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এতে তাকে সুস্থ অবস্থায় দেখা গেছে। রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে একটি প্রতিবেদন পরিচালকের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমাদের সরাসরি কোনো মন্তব্য করার সুযোগ নেই। এ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলবেন হাসপাতালের পরিচালক। তবে আমাদের কাছে খালি চোখে যতটুকু দেখা গেছে, রোগীর অবস্থা খারাপ নয়, ভালোই মনে হয়েছে। পরিচালক সাহেব এক দিনের ছুটিতে আছেন। তিনি এলে হয়তো আরেকটু দেখে এবং মেডিসিন বিভাগের প্রধানের সঙ্গে কথা বলে তাকে ছুটি দিতে পারেন।
কুমেক হাসপাতালের একাধিক সূত্র জানায়, চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড সোমবার দুপুরে পরিচালকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বৈঠক করেন। পরে তারা জিসানের কেবিনে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। এ ছাড়া তার সব পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করা হয়। সব বিষয় পর্যালোচনা শেষে বোর্ড জিসানের বড় ধরনের কোনো সমস্যা খুঁজে পায়নি। জিসান সুস্থ বা ভালো আছে মর্মে মেডিকেল বোর্ডের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। মেডিকেল বোর্ডের এই মতামতের ভিত্তিতে যেকোনো সময় জিসানকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে।
কুমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক নিশাত সুলতানা বলেন, মেডিকেল বোর্ড জিসানের শারীরিক অবস্থার পর্যবেক্ষণ এবং পরীক্ষা নিরীক্ষার রিপোর্ট দেখেছে। তারা একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। এতে সব চিকিৎসকের স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়নি। মঙ্গলবার তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে।
কুমিল্লা জেলা ডিবির ওসি মোহাম্মদ শামসুল আলম শাহ বলেন, শিবির নেতা জিসান মিয়া শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। গ্রেফতারের কথা শুনে তিনি অসুস্থতার ভান করছেন। মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পেলে আমরা তাকে আদালতে সোপর্দ করব। 
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, চিকিৎসকরা ছাড়পত্র দিলেই আমরা তাকে আদালতে সোপর্দ করব। 
উল্লেখ্য, কুমিল্লার দাউদকান্দিতে এক নারীকে ধর্ষণ এবং ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে শিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জিসান প্রধানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ভিকটিম নারী।
ওই নারীকে বিয়ে এড়াতে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন জিসান। এরপর নাটকীয়ভাবে উদ্ধার হয়ে চিকিৎসার জন্য আসেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে; কিন্তু এতে শেষ রক্ষা হয়নি। হাসপাতালে থাকা অবস্থাতেই ওই নারীর করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে কথিত নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর শুক্রবার রাতে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকায় ‘অচেতন’ অবস্থায় জিসানকে উদ্ধার করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। রাতেই চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ বলছে জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি; তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
জিসান মিয়া (২৮) ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।
গত ১১ জুন নিজে আত্মগোপন করে অপহরণ নাটক তৈরি করেন জিসান মিয়া। তাকে উদ্ধারের পর গত শুক্রবার রাতে ওই নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় জিসানকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধারায় করা মামলাটিতে মোট আসামি করা হয়েছে চারজনকে। মামলায় ওই নারীকে একাধিকার ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে।
জিসান ছাড়া গ্রেফতার অপর তিন আসামি হলেন- সেকান্দর আলী (২৪), গোলাম রাব্বী (২৬) ও সজীব হাসান (২১)। তাদের সবার বাড়ি দাউদকান্দিতে। এই তিনজন জিসানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। গত শনিবার বিকালে তাদের কুমিল্লার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।