
জনপ্রিয় ইসলামিক বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীকে সফরের মাঝপথেই দেশ ছাড়তে বলেছে অস্ট্রেলিয়া। ইহুদিবিরোধী মন্তব্য ও অ্যাডলফ হিটলারকে ‘ঈশ্বরের শাস্তি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইল।
বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মিজানুর রহমান আজহারী। বুধবার বিকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে এই বক্তা বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম কমিউনিটির আমন্ত্রণে গত ৫ দিন ধরে আমি অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছি। আমার সফর নিয়ে যে সংবাদটি ছড়িয়েছে, তা বিদেশি একটি প্রতিবেদনের ভুল ও বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা। ভিসা বাতিলের কারণ হিসেবে সাম্প্রতিক কোনো বক্তব্যকে দায়ী করা সম্পূর্ণ অসত্য—কারণ এখনো পর্যন্ত আমি অস্ট্রেলিয়াতে কোনো বক্তব্যই দিইনি। প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি সহজেই যাচাইযোগ্য।
আজহারী বলেন, বিভিন্ন দেশে বক্তাদের সফর ঘিরে চাপ বা প্রভাব থাকা অস্বাভাবিক নয়; আমার ক্ষেত্রেও তেমন কিছু ঘটেছে। কিছু নির্দিষ্ট স্বার্থান্বেষী মহল ও নাস্তিক্যবাদী পক্ষ পরিকল্পিতভাবে একজোট হয়ে— পুরোনো, বিচ্ছিন্ন বক্তব্যকে প্রেক্ষাপটহীনভাবে তুলে এনে প্রসাশনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করেছে। একই ভিডিওর সূত্র ধরে কয়েক বছর আগে যেমন যুক্তরাজ্যেও বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, আমি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি (Communal Harmony) এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান (Religious Coexistence)-এ বিশ্বাসী। আমার বহু আলোচনাতেও যা স্পষ্ট প্রতীয়মান।
এর আগে এক প্রতিবেদনে ডেইলি মেইল জানায়, আজহারীর অস্ট্রেলিয়ার ভিসা মঙ্গলবার বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
আজহারী ‘লিগ্যাসি অব ফেইথ’ শিরোনামের একটি ধারাবাহিক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তিনি অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ব্রিসবেন, মেলবোর্ন, সিডনি ও ক্যানবেরায় বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল।
অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল দলের সিনেটর জোনাথন ডুনিয়াম বলেন, বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন আগেই সরকারের কাছে আজহারীর সফর নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল। তার মতে, আজহারীর অতীত বক্তব্যে ঘৃণা ও বিভাজন ছড়ানোর প্রবণতা রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়া এক বক্তব্যে আজহারী ইহুদিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব তুলে ধরেন এবং হলোকাস্ট নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এছাড়া, তিনি ইহুদিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে যুক্তরাজ্যেও আজহারীর ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সংগঠন তাই সতর্ক করে বলেছে, তার বক্তব্য ধর্মীয় উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং চরমপন্থি মতাদর্শকে উসকে দিতে পারে। এরপরই তার ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া সরকার।