
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এমপি নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই শেষ হয়নি। জুলাই সনদ ও গণভোটের যে গণরায়, যার ভিত্তিতে নির্বাচন হয়েছে, যার ভিত্তিতে সরকার গঠিত হয়েছে। সেই গণভোটের রায়কে বাতিল করার জন্য আদালতকে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আদালতকে আবারও দলীয়করণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা আবারও বলতে চাই আদালতকে যদি রাজনৈতিক এজেন্ডা বা দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যবহার করা হয়- তার পরিণতি খুবই করুণ হবে।
সোমবার নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এএসএম সুজা উদ্দিন।
এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, আদালতকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন শুরু হয়েছিল। এখন যারা সরকারে আছেন, তাদের প্রতি আহ্বান থাকবে গণভোটের গণরায় দ্রুত বাস্তবায়ন করুন। গণভোট ও রায়ের মাধ্যমে নতুন সংসদের যাত্রা শুরু হোক।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই আবারও শুরু করতে হবে। সেটি নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী শুধু ঢাকা থেকে নেতৃত্ব দিলে হবে না। আমরা আশা করব চট্টগ্রামে দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ তৈরি হবে। আপনারা যারা এখানে আছেন চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। ছোট বড় ব্যবসায়ীদের পক্ষে দাঁড়ান। যাতে কোনো চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী এই চট্টগ্রামে থাকতে না পারে।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আমরা দেখছি ফ্যাসিস্টদের আস্ফালন চট্টগ্রামে কমেনি। ফ্যাসিস্টদের আস্ফালন আমরা নানা সময় দেখতে পাই। আমি পরিষ্কার করি বলতে চাই, পতিত আওয়ামী লীগ ও এনসিপি এক সঙ্গে থাকতে পারে না। যে জেলায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম শুরু সেই জেলায় হয় আওয়ামী লীগ থাকবে, নয়তো এনসিপি থাকবে। কোনো জেলায় যদি এনসিপির ১০ নেতাকর্মীও থাকে সেই জেলায় আওয়ামী লীগ যেন কার্যক্রম পরিচালনা করার সুযোগ না পায়। এনসিপিকে তা নিশ্চিত করতে হবে। এই ম্যান্ডেট জুলাই শহীদরা দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। শুধু ভারতীয় আধিপত্যবাদ নয়, বাংলাদেশের, দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে পরাশক্তিও বিরুদ্ধে আমরা লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাব। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও আমেরিকার সংঘাতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যে বিবৃতি দিয়েছে, তা দেখে আমার খুবই কষ্ট লেগেছে। দেশ আবার কোনো নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কবলে পড়ল কিনা।
এনসিপির সদস্য সচিব এমপি আখতার হোসেন বলেন, অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশে স্বপ্ন দেখেছিলাম। ঐকমত্য কমিশনে সংস্কারের পক্ষে কথা বলেছি। এরপর জুলাই সনদ প্রণীত হয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ গৃহীত হয়েছে। আজকে গণভোটের রায় ও গণভোটের শপথ হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। ছলেবলে কৌশলে গণভোটের বিষয়টি আদালতে সঁপে দেওয়ার চক্রান্ত করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও চট্টগ্রামে এনসিপির বিভিন্ন স্তরের নেতারা।