সংবিধান সংস্কার পরিষদের আলোচনা নিয়ে সংসদে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২৯ মার্চ ২০২৬, ২৩:৫১


জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশের (আদেশ নম্বর ১) অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের দাবি এবং আজকের অধিবেশনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়ে আলোচনার দাবি জানান বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ নিয়ে সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হলে পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্পিকারের পরামর্শ অনুযায়ী আমি যথাযথভাবে নোটিশটি উত্থাপন করলাম। সেটি হচ্ছে—জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫-এর আলোকে আমি সংবিধান সংস্কার পরিষদ আহ্বানের বিষয়ে নোটিশটি উত্থাপন করছি। সেখানে বিস্তারিত আছে। আপনি আলোচনার জন্য এটি মঞ্জুর করবেন বলে বিশ্বাস করি।
জামায়াত আমিরের এই বক্তব্যের পরপরই সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমাদের প্রথা অনুযায়ী তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন এবং ৭১ বিধি শেষ হওয়ার পরই যেকোনো বিষয় উত্থাপন করা হয়। বিরোধীদলীয় নেতাকে অনুরোধ করব বিধি শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে।
এরপর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, সেদিন (১৫ মার্চ) স্পিকার বলেছিলেন—এ ধরনের আলোচনার বিষয় থাকলে প্রশ্নোত্তরের পরেই হবে। সেই মোতাবেক দাঁড়িয়েছি। আমি মনে করি, এটা আমার অধিকার ও দায়িত্ব। মনে করি, আপনি এভাবেই গ্রহণ করবেন।
এরপর চিফ হুইপের কাছে এক মিনিট সময় চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বক্তব্য দিতে চাইলে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা আপত্তি জানান।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা স্পিকারের এখতিয়ার। তিনি সময় না দিলে আমি বসে পড়তে পারি। তখন ডেপুটি স্পিকার সালাহউদ্দিন আহমদের উদ্দেশে বলেন, মাননীয় মন্ত্রী, আপনি দয়া করে আপনার কথা শেষ করুন।
জবাবে মন্ত্রী বলেন, আপনি অনুমতি না দিলে... দিস ইজ মাই পয়েন্ট অব অর্ডার। আপনি পয়েন্ট অব অর্ডারের অনুমতি না দিলে বসে পড়তে পারি। আপনি দাঁড় করিয়ে রাখতে পারেন, এটা আপনার ক্ষমতা।
পরে ডেপুটি স্পিকার বলেন, মাননীয় মন্ত্রী আপনার বক্তব্য শেষ করুন। যদিও সংসদে সময় দেওয়ার এখতিয়ার চিফ হুইপের নেই, এটি একমাত্র স্পিকারের এখতিয়ার।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি সবাইকে সম্মান জানাতে চাই। বিরোধীদলীয় নেতা আলোচনার জন্য একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। যেটা বিগত দিনে স্পিকার তাকে অনুরোধ করা করেছিলেন—আপনি বিধি মোতাবেক উত্থাপন করেন, বিধি মোতাবেক আপনাকে সময় দেবেন। আমাদের চিফ হুইপ যেটা বলেছেন, আমাদের রীতি অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর পর্ব ও ৭১ বিধির পরেই এ জাতীয় মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। সেই কথাটাই বিরোধীদলীয় নেতাকে আপনি বলেছেন। আমার মনে হয় না কারও অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। ৭১ বিধিতে সুযোগ দেবেন কি, দেবেন না, সেটা আপনার এখতিয়ার। তবে এটা সংসদ সদস্যদের অধিকার। তারপরে বিরোধীদলীয় নেতা যদি নোটিশের বিষয়টা উত্থাপন করেন, তার বিরুদ্ধে আমাদেরও দুই-চার কথা থাকতে পারে।
পরে মাইক নেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, সংসদ কীভাবে গঠিত হচ্ছে তা আমরা ভুলে যাচ্ছি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট হয়েছিল। এখন সংসদের কার্যক্রম দেখলে মনে হচ্ছে, এ ধরনের কিছুই হয়নি। এটি সবচেয়ে বেশি জনগুরুত্বপূর্ণ, এ সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত, এর সুরাহা হওয়া উচিত। তারপরও নিয়মিত সব কার্যক্রম হওয়া উচিত। বিধি মোতাবেক বিরোধীদলীয় নেতা নোটিশ দিয়েছেন। গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনার অনুরোধ করেন তিনি।
পরে চিফ হুইপ বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত বিষয় নিশ্চয়ই আলোচনায় আসবে, আজকেই আলোচনা হতে পারে অথবা স্পিকার যেদিন নির্ধারিত করবেন, সেদিন আলোচনা হতে পারে। তিনি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এসেছেন। আমাদের দিক থেকে অসুবিধা নেই। ৭১ বিধি শেষে বিষয়টি উত্থাপন করতে পারেন।
ডেপুটি স্পিকার বিরোধীদলীয় নেতাকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনার বিধিটি আমরা দেখছি। ৭১ বিধির পরেই নোটিশটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাব। পরে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, জনগণের রায়কে সম্মান দিতে হবে।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান আবারও মাইক নেন। তিনি বলেন, আমি জেনেশুনে এ সময় এ বিষয়টি উত্থাপন করেছি। আমার জানামতে এটাই সময়। ৭১ বিধির আগে এটা উত্থাপন করার সুযোগ আছে। ৬৪ বিধি অনুযায়ী বিধিটা দেখতে পারেন। সেখানে উল্লেখ আছে।
পরে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ৬৪ বিধিতে উল্লেখ আছে। কিন্তু সংসদের রীতি, তা চিফ হুইপ বলেছেন, সে জন্য বলেছি–নোটিশটি আমরা পেয়েছি। ৭১ বিধির শেষে নোটিশটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেব। 
এরপর চিফ হুইপ বলেন, স্পিকার চাইলে প্রশ্নোত্তর ও ৭১ বিধি স্থগিত রেখে যে কোনো আলোচনা করতে পারেন। অবশেষে স্পিকার সংসদীয় বিধি অনুসরণ করে পরবর্তী কার্যদিবসে বা নির্ধারিত সময়ে বিষয়টি আলোচনার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।