
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ পাগনার হাওড়ে বাঁধ কাটা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। শনিবার ঈদের দিন সকালে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাওড়ের পানি নিষ্কাশন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ চলছে। সর্বশেষ গত কয়েকদিন টানা বৃষ্টিতে ফসলের জমিতে অতিরিক্ত পানি জমার কারণে ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থেকে শনিবার সকালে কাশিপুর গ্রামের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমির আলী মেম্বারের নেতৃত্বে গ্রাম থেকে প্রায় ২০-২৫ জন শান্তিপুর গ্রামের পাশে থাকা বাঁধটি কাটতে যান। এ সময় পাশের গ্রাম শান্তিপুরের লোকজন নিষেধ করেন। বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা। এ সময় উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে ১২ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং গুরুতর আহত ৩ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
কাশিপুর গ্রামের ইউপি সদস্য মো. আমির আলী বলেন, টানা বৃষ্টিপাতে নলচুন্নি হাওড়ে রোপণ করা ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে শান্তিপুর গ্রামের কানাইখালী নদীতে একটি বাঁধ থাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে পানি নামানোর জন্য তারা বাঁধ কাটতে গেলে স্থানীয়রা বাধা দেয়। একপর্যায়ে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে শান্তিপুর গ্রামের কৃষক সানোয়ার হোসেন বলেন, পাঠামারা খালের বাঁধ না কেটে শুধুমাত্র কানাইখালী নদীর বাঁধ কাটা হলে শান্তিপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাবে।
তিনি জানান, ইউএনও উভয় বাঁধ কাটার নির্দেশ দিলেও একটি বাঁধ রেখে অন্যটি কাটতে আসায় তারা আপত্তি জানান। এতে পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে জামালগঞ্জ থানার এসআই পঙ্কজ ঘোষ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কোনো পক্ষই অভিযোগ করেনি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নূর জানান, পাঠামারা খাল ও কানাইখাল নদীর বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের জন্য উভয়পক্ষকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়েছে বাঁধ দুটি কেটে পানি নিষ্কাশন করা হবে। কিন্তু পাঠামারা খালের বাঁধ আগে না কেটে কানাইখালের বাঁধ কাটার জন্য একপক্ষ গেলে অন্যপক্ষ বাঁধা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।