
রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়ার একটি বিল কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়েছে। বুধবার দ্বিদলীয় সমর্থনে বিলটি ২৬২-১৫৯ ভোটে পাস হয়। এখন এটি আইনে পরিণত করতে ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে।
‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামে বিলটি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জোরদারের পাশাপাশি রুশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা বিদেশি দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা ট্রাম্পকে দেবে। এর আওতায় ভারত ও চীনও পড়তে পারে।
এর আগে সিনেটে বিলটি ৮৬-১১ ভোটে পাস হয়েছিল। তবে প্রেসিডেন্টের অর্থনৈতিক ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে মতবিরোধের কারণে প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি আটকে ছিল। শেষ পর্যন্ত ৫৮ জন ডেমোক্র্যাট রিপাবলিকানদের সঙ্গে যোগ দিয়ে বিলটির পক্ষে ভোট দেন।
প্রতিনিধি গ্রেগরি ডব্লিউ মিকস বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পরিবর্তে বিলটি ট্রাম্পকে আরও শুল্ক ক্ষমতা দেওয়ার পথ তৈরি করেছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম, বন্ধকের সুদ ও মূল্যস্ফীতি বাড়ার সময়ে কংগ্রেসের ট্রাম্পকে আরও শুল্ক ক্ষমতা দেওয়া উচিত নয়।
অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন বিলটি পাস হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রের ওপর সর্বোচ্চ চাপ তৈরি করতে এটি দেশটির জ্বালানি আয়ের পথ বন্ধ করবে।
বিলে যা থাকছে
রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জোরদারের পাশাপাশি বিলটি মস্কোর জ্বালানি আয় কমানো এবং নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের ক্ষেত্রে থাকা ফাঁকফোকর বন্ধ করার লক্ষ্য নিয়েছে।
বিলটি রুশ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় ক্রেতা বিদেশি দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেবে। তবে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুল্ক আরোপ করছে না; বরং প্রেসিডেন্টকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিচ্ছে।
এ ছাড়া বাজারমূল্যের নির্ধারিত সীমার নিচে দামে রুশ তেল পরিবহনে ব্যবহৃত জাহাজ, লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান ও সামুদ্রিক অপারেটরদের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্ব, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যাংক ও জ্বালানি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে সরাসরি লক্ষ্য না করলেও বিলটি ইরানের সামরিক ও জ্বালানি বাণিজ্যের বিরুদ্ধে বিদ্যমান প্রয়োগব্যবস্থাও আরও বিস্তৃত করছে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস