চুক্তি ‘প্রায় চূড়ান্ত’ বলেছিলেন ট্রাম্প, এখন বলছেন ‘তাড়াহুড়া নয়'

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২৫ মে ২০২৬, ১২:৪৫

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে উপনীত হতে তিনি মার্কিন আলোচকদের ‘তাড়াহুড়া না করার’ নির্দেশ দিয়েছেন, যদিও এর আগে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তাঁরা একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন।
আলোচনাধীন চুক্তিতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিনে বাড়ানোর প্রস্তাব, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আরও আলোচনার পরিকল্পনার কথা বলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘গঠনমূলক’ আলোচনা এগিয়ে চলছে, তবে ‘উভয় পক্ষকেই সময় নিতে হবে এবং বিষয়টি সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে’।
গত শনিবার ট্রাম্প বলেছিলেন, আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তি ‘প্রায় চূড়ান্ত’। তাঁর এ বক্তব্য থেকে ধারণা করা হচ্ছিল যে শিগগিরই কোনো ঘোষণা আসতে পারে।
এ সপ্তাহান্তে ইরানি কর্মকর্তারাও আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছিলেন, একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে দুই পক্ষই একই সঙ্গে ‘খুব কাছে’ এবং ‘খুব দূরে’ রয়েছে।
মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই চুক্তি কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা নয়; বরং এতে কিছু জটিল বিষয় পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি, জব্দ করা ইরানি তহবিল মুক্ত করার আহ্বান এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে ওয়াশিংটনের দাবি।
খবর অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই চুক্তি রিপাবলিকানদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি করেছে। দলের কিছু সদস্য প্রকাশ্যে বলছেন, এটি ইরানের প্রতি অতিরিক্ত নমনীয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর ব্যাপক হামলা চালায়, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। হামলার জবাব দিতে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলোর ওপর হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এ পদক্ষেপে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়।
এপ্রিলের শুরুতে উভয় পক্ষ একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে উপনীত হয়। যুদ্ধবিরতির পর হামলা বন্ধ থাকলেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। ইরান এখনো প্রণালিটি প্রায় বন্ধ করে রেখেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, যতক্ষণ না একটি চুক্তি সম্পন্ন, অনুমোদিত ও স্বাক্ষরিত হয়, নৌ অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে কার্যকর থাকবে।
গতকাল রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প আবারও উল্লেখ করেন যে ইরানকে ‘বুঝতে হবে’ তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। অন্যদিকে তেহরান বারবার বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে অগ্রগতির কথা জানাল সব পক্ষ
ট্রাম্প রোববার তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও পেশাদারপূর্ণ ও ফলপ্রসূ হয়ে উঠছে; তবে তাদের বুঝতে হবে, তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র বা বোমা তৈরি বা অর্জন করতে পারে না।’
মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশকে ‘তাদের সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য’ ধন্যবাদও জানান ট্রাম্প।