হঠাৎ ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০ হাজার মানুষকে সরে যাওয়ার নির্দেশ, নেপথ্যে কী?

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২৩ মে ২০২৬, ২৩:২৭


যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টিতে ভয়াবহ রাসায়নিক দুর্ঘটনার শঙ্কায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আশঙ্কা করা হচ্ছে, একটি রাসায়নিক ট্যাংক ফেটে যেতে পারে অথবা বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।
সমস্যার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার (২১ মে) গার্ডেন গ্রোভ শহরের জিকেএন অ্যারোস্পেসের একটি কারখানায়। সেখানে মিথাইল মেথাক্রাইলেট নামের অত্যন্ত দাহ্য রাসায়নিকভর্তি একটি সংরক্ষণ ট্যাংক থেকে গ্যাস বের হতে শুরু করে। এই রাসায়নিক রেজিন ও প্লাস্টিক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
প্রথমে হ্যাজম্যাট (বিপজ্জনক রাসায়নিক মোকাবিলা) দল ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। পরে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে মনে করে সেই নির্দেশ তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু পরে ট্যাংকের একটি ভালভ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে এবং পুরোপুরি ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি বলে জানায় গার্ডেন গ্রোভ কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (২২ মে) নতুন করে ছয়টি শহরের বাসিন্দাদের জন্য সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়।
অরেঞ্জ কাউন্টি ফায়ার অথরিটির বিভাগীয় প্রধান ক্রেইগ কোভি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা এখন এমন একটি ট্যাংকের মুখোমুখি, যা সরাসরি সংকটের মধ্যে রয়েছে।’
তিনি জানান, এখন মূলত দুটি সম্ভাবনা রয়েছে— এক, ট্যাংকটি ফেটে গিয়ে প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার গ্যালন বিপজ্জনক রাসায়নিক আশপাশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।  দুই, ট্যাংকে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে, যা পাশের অন্যান্য জ্বালানি ও রাসায়নিক ট্যাংকেও আগুন বা বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি করবে।
গার্ডেন গ্রোভ পুলিশের প্রধান আমির এল-ফারা জানান, যাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাদের প্রায় ১৫ শতাংশ এখনও এলাকা ছাড়তে রাজি হননি। দুর্গতদের জন্য অন্তত দুটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
ফায়ার বিভাগের কর্মকর্তা কোভি সবাইকে সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা সম্ভাব্য বিপদের কথা মাথায় রেখেই এই সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করছি। ট্যাংক হয় ফেটে যাবে, নয়তো বিস্ফোরিত হবে। তাই সবাইকে অনুরোধ করছি, নির্দেশ মেনে দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যান।’
তবে কর্মকর্তারা বলছেন, ট্যাংকটি বিস্ফোরণের বদলে ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনাও আছে। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি কর্মীরা চারপাশে বালুর বাঁধ তৈরি করেছেন, যাতে রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়লেও তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
ক্রেইগ কোভির ভাষায়, ‘অদ্ভুত শোনালেও, এই পরিস্থিতিতে সেটাই হবে সবচেয়ে ভালো সম্ভাব্য ফল।’