ট্রাম্পের ‘ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে’ মন্তব্যে তেলের বাজারে অস্থিরতা

ডেস্ক রিপোর্ট
  ১৫ মে ২০২৬, ২১:৩৬


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান ইস্যুতে তার ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে। ট্রাম্পের এমন কঠোর মন্তব্যের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। 
শুক্রবার (১৫ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৩ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তার প্রভাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাজার তথ্য অনুযায়ী, অপরিশোধিত তেল ব্যারেলপ্রতি ৩.৪৭ ডলার বা ৩.৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৯.১৯ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ফিউচার ৩.৭২ ডলার বা ৩.৭ শতাংশ বেড়ে ১০৪.৮৯ ডলারে পৌঁছায়।
সাপ্তাহিক হিসেবে অপরিশোধিত তেলের দাম ৭.৮ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই ৯.৯ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এবং দুর্বল যুদ্ধবিরতির কারণে বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে তেলের দামে।
হোয়াইট হাউসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্প বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত থাকতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরান ইস্যুতে তার ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের মন্তব্য বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ভান্ডা ইনসাইটসের প্রতিষ্ঠাতা ভান্ডানা হরি বলেন, বাজার এখন হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি ও সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনার দিকে নজর রাখছে।  
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এই সংঘাত, যা কখনোই হওয়া উচিত ছিল না, তা অব্যাহত থাকার কোনো কারণ নেই। তবে ট্রাম্প দাবি করেন, আলোচনায় চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে ৩০টি জাহাজ চলাচল করেছে, যা যুদ্ধের আগে দৈনিক গড় ১৪০টির তুলনায় অনেক কম হলেও আগের তুলনায় বৃদ্ধি নির্দেশ করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাস্তব তেলের সরবরাহের চেয়ে বর্তমানে বাজারের মনোভাবই বেশি প্রভাব ফেলছে, ফলে সামান্য অগ্রগতিও দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। শিপিং অ্যানালিটিকস প্রতিষ্ঠান কেপলার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে বাড়ছে, যদিও তা এখনও স্বাভাবিক পরিস্থিতির চেয়ে অনেক কম।