কেভিনের জন্য আর কোন ইমিগ্রেশন আইনেরই আর দরকার নেই

ডেস্ক রিপোর্ট
  ১২ মে ২০২৬, ২০:০১

বাবা-মায়ের সঙ্গে পুনর্মিলনের মাত্র একদিন পরেই মারা গেল টার্মিনাল ক্যান্সারে আক্রান্ত আঠারো বছরের কেভিন গনজালেজ। মেক্সিকোর দুরাঙ্গোতে পরিবারের কোলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে এই তরুণ, যার বেঁচে থাকার শেষ ইচ্ছা ছিল শুধু একবার বাবা-মাকে কাছে পাওয়া।
শিকাগোতে জন্ম নেওয়া কেভিন এই বছরের শুরুতে পেটের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে ধরা পড়ে কোলন ক্যান্সার, যা ততদিনে তার পেট ও ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়েছিল। চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, আর কোনো চিকিৎসা সম্ভব নয়। পরামর্শ দেওয়া হয় বাড়িতে ফিরে স্বজনদের সঙ্গে শেষ সময়টুকু কাটাতে।
কেভিনের বাবা-মা বছর আগেই ইমিগ্রেশন আইনে মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানো হয়েছিলেন। ছেলের অসুস্থতার খবর পেয়ে সীমান্ত পেরিয়ে আমেরিকায় আসার চেষ্টা করলে তাদের আটক করে মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ এবং আরিজোনার একটি ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়। এদিকে অসহায় কেভিন মেক্সিকোয় ফিরে দাদির কাছে থেকে বাবা-মার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে।
গত সপ্তাহে কেভিন প্রকাশ্যে আবেদন জানায় তার বাবা-মাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য। মেক্সিকান কনস্যুলেট ও একাধিক আইনপ্রণেতার সহায়তায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। বৃহস্পতিবার শুনানিতে বাবার আবেদনে আদালত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং পরদিনই বাবা-মায়ের মুক্তির আদেশ দেন।
৯ মে শনিবার দুরাঙ্গোতে মায়ের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে কেভিন — যেন দীর্ঘ প্রতীক্ষার গোধূলিতে একটুকরো আলো। কিন্তু সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি। রবিবার বিকেলে বাবা-মা ও স্বজনদের মাঝে চিরতরে চোখ বুজে দেয় সে।
চোখের জল মুছতে মুছতে কেভিনের মা বলেন, "ওকে এত শীর্ণ দেখব, কল্পনাও করিনি।" বাবা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, "আমি ওর পায়ের কাছে হাঁটু গেড়ে বসে বলেছি — বাবা হিসেবে যদি কখনো কষ্ট দিয়ে থাকি, ক্ষমা করে দিও। তোমাকে ভালোবাসি।" তিনি আরও বলেন, "ছেলেকে একবার দেখতে দেয়ালও টপকাতাম, কাঁটাতারও পেরোতাম — তার জন্য জীবনও দিয়ে দিতাম।"
কেভিনের গল্প লক্ষ মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। সে শেষ পর্যন্ত তার স্বপ্ন পূরণ করেছিল — বাবা-মায়ের উপস্থিতিতেই বিদায় নিয়েছে পৃথিবী থেকে।