
ইভাঙ্কা ট্রাম্প সাধারণত নিজেকে সংযত রাখেন। জনসমক্ষে আবেগ দেখানো তার স্বভাব নয়। কিন্তু ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার "ডায়েরি অব এ সিইও" পডকাস্টের ৯০ মিনিটের সাক্ষাৎকারে সেই সংযম বারবার ভেঙে পড়ল। মা ইভানা ট্রাম্পের কথা উঠতেই চোখ ভিজে এলো। স্বামী জ্যারেড কুশনারের ক্যান্সারের কথা বলতে গিয়ে কণ্ঠ আটকে গেল। আর বাবা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লাইভ টেলিভিশনে গুলি খেতে দেখার সেই মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে ৪৪ বছর বয়সী ইভাঙ্কা শুধু বললেন, "টিস্যু দেবে?" — পাশের সহকারী এগিয়ে দিলেন, চোখ মুছলেন তিনি।
সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটা এলো যখন ইভাঙ্কা তার মা ইভানা ট্রাম্পের কথা বলতে শুরু করলেন। ২০২২ সালে নিউইয়র্কের আপার ইস্ট সাইডের বাড়িতে সিঁড়ি থেকে পড়ে ৭৩ বছর বয়সে মারা যান ইভানা। সেই মৃত্যু ছিল অপ্রত্যাশিত, আকস্মিক। ইভাঙ্কা বললেন, সবচেয়ে কষ্ট লাগে এটা ভেবে যে তার তিন সন্তান — আরাবেলা, জোসেফ ও থিও — তাদের দাদিমাকে কখনও জানতে পারবে না। "মা আমাকে শিখিয়েছিলেন, যা করো সেটা সচেতনভাবে করো," বলতে বলতে আবার থামলেন তিনি। ফিসফিস করে বললেন, "সরি।" পডকাস্ট হোস্ট স্টিভেন বার্টলেট যখন শৈশবের ছবি সামনে ধরলেন, ইভাঙ্কা চোখ ফেরাতে পারলেন না — "আমি আর কাঁদতে চাই না," বললেন, কিন্তু চোখ আটকানো গেল না। "সে একটা ভালো জীবন কাটিয়েছিল। সে খুব আনন্দময় মানুষ ছিল।"
তবে একটি মানুষ এই কষ্টের মাঝেও ইভাঙ্কার জীবনে আলো হয়ে আছেন — তার নানি, ইভানার মা মারি জেলনিচকোভা, যাকে পরিবার আদর করে "বাবি" ডাকে। বর্তমানে ফ্লোরিডায় ইভাঙ্কার পরিবারের সাথেই থাকেন তিনি। ইভাঙ্কা বললেন, "আমার নানি প্রতিটি খাবার নিজে রান্না করতেন। তিনি অবিশ্বাস্যরকম মমতাময়ী।" নানির মুখ থেকে মায়ের গল্প শুনতে পাওয়াটাকে "আশীর্বাদ" বললেন ইভাঙ্কা — কারণ সন্তানেরা যাকে চেনার সুযোগ পায়নি, তার স্মৃতিটুকু অন্তত বেঁচে থাকছে।
স্বামী জ্যারেড কুশনারের কথায় এলো আরেকটি কঠিন অধ্যায়। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসে কাজ করার সময় কুশনার গোপনে থাইরয়েড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন, গলায় অস্ত্রোপচার হয়েছিল। এরপর ২০২২ সালে হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর আবার দ্বিতীয়বার থাইরয়েড অস্ত্রোপচার হয়। ইভাঙ্কা বললেন, "হোয়াইট হাউস ছেড়ে দিয়েছিলাম, জীবন তখন অনিশ্চিত। জ্যারেডের ক্যান্সার ধরা পড়েছে দ্বিতীয়বার, আর মা মারা গেলেন — সেই সময়টায় আমি থেরাপিতে গেলাম।" এটাও ইভাঙ্কার বিরল স্বীকারোক্তি — যে মানুষটি সবসময় শক্ত মুখে থাকেন, তিনিও সাহায্য নিয়েছেন।
সবচেয়ে নাটকীয় স্মৃতিটা এলো ২০২৩ সালের জুলাই মাসের কথা — পেনসিলভানিয়ার বাটলারে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গুলি করা হয়েছিল সেদিন। ইভাঙ্কা তখন নিউজার্সির বেডমিন্সটারে ট্রাম্পের গলফ ক্লাবে, সুইমিং পুলে দুই সন্তানকে নিয়ে বসেছিলেন। টেলিভিশন চলছিল। হঠাৎ পর্দায় দেখলেন সব। "প্রায় সরাসরি দেখলাম — আমি আতঙ্কিত হয়ে গেলাম, ভয় পেলাম।" তবে বাবাকে সিক্রেট সার্ভিসের বেষ্টনীতে মঞ্চ থেকে নেমে আসতে দেখে তিনি বুঝেছিলেন — "এটা তার সময় নয়।" এবং এখন তিনি জানালেন, বন্দুকধারী টমাস ক্রুকসকে ক্ষমা করে দিয়েছেন তিনি। "ক্ষমা করা কঠিন, কিন্তু করতে হয়।"
পুরো সাক্ষাৎকার জুড়ে ইভাঙ্কা বারবার একটি কথাই বললেন — "জীবনে কিছুই স্বাভাবিক ধরে নেওয়া যায় না।" মা হারানো, বাবার উপর হামলা দেখা, স্বামীর দুবার ক্যান্সার — এই তিনটি ঘটনা তাকে শিখিয়েছে, প্রতিটি মুহূর্তের মূল্য আছে। ট্রাম্প পরিবারের ক্ষমতা, সম্পদ ও প্রভাবের আড়ালে যে সাধারণ মানবিক বেদনা লুকিয়ে থাকে — বৃহস্পতিবারের সেই সাক্ষাৎকারে ইভাঙ্কা সেটাই একটু খুলে দেখালেন।