আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে ফিফা

স্পোর্টস ডেস্ক
  ১৮ জুলাই ২০২৬, ০০:১৫

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
বুধবার (১৫ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে জয় পাওয়ার পর উদযাপনের সময় আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও বদলি বেঞ্চে থাকা জিওভানি লো সেলসো একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। ব্যানারটিতে লেখা ছিল, ‘Las Malvinas son Argentinas’, যার বাংলা অর্থ ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’।
ফিফার মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড স্টেডিয়ামের আচরণবিধির পরিপন্থী। সংস্থাটির নিয়ম অনুযায়ী, খেলাধুলার পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন এবং রাজনৈতিক, আদর্শিক, ধর্মীয় বা আপত্তিকর বার্তাসংবলিত কোনো কিছু স্টেডিয়ামে প্রদর্শন করা নিষিদ্ধ।
বৃহস্পতিবার ফিফা জানিয়েছে, তাদের স্বাধীন ডিসিপ্লিনারি কমিটি ম্যাচ রিপোর্ট পর্যালোচনা করছে এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় বিবেচনা করছে। এরপর ফিফার শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ফিফার এক মুখপাত্র আলজাজিরাকে বলেন, ‘ফিফার স্বাধীন ডিসিপ্লিনারি কমিটি বর্তমানে ম্যাচ রিপোর্ট মূল্যায়ন এবং সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের আগে সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনা করছে।’
ব্যানারটি খেলোয়াড়দের হাতে কীভাবে পৌঁছেছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে ফিফার বিধিমালা অনুযায়ী, এ ঘটনায় খেলোয়াড়দের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের জন্য ফিফার জরিমানার পরিমাণ সাধারণত ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার মার্কিন ডলারের মধ্যে হয়ে থাকে।
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আগামী রোববার নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে।
বুধবারের ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের প্রবীণদের অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মার্টিনেজ বলেন, ‘আমরা আর্জেন্টিনার জনগণকে হতাশ করতে পারতাম না।’
উল্লেখ্য, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ গত চার বছর ধরে ইংল্যান্ডের ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে খেলছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার ব্রিটেনের ব্যবসামন্ত্রী পিটার কাইল বিষয়টিকে ফিফার নিয়মের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করে তদন্তের দাবি জানান। ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র বলেন, ‘বিশ্বকাপ হয়তো আমাদের নয়, কিন্তু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ অবশ্যই আমাদের। দ্বীপবাসীদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রয়েছে এবং ফকল্যান্ডের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি কখনো পরিবর্তন হবে না।’   
১৯৮২ সালে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত এই অঞ্চলে সামরিক অভিযান চালিয়ে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ দখল করেছিল আর্জেন্টিনা। তবে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার নৌবহর পাঠানোর পর স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য পুনরায় দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
আটলান্টার ম্যাচের পর ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনাটি ‘পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে’ তদন্ত করার আহ্বান জানিয়ে পিটার কাইল বিবিসিকে বলেন, ‘রাজনীতিকে ফুটবল থেকে আলাদা রাখা প্রয়োজন। আসলে বিশ্বকাপের অন্যতম মূল নীতি হলো—রাজনীতি ফুটবলের বাইরে থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন বিষয়টি ফিফার হাতে। আমরা আশা করছি, ফিফা এ বিষয়ে তদন্ত করবে।’
উনিশ শতকে ব্রিটেন ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ দখল করেছিল। তবে আর্জেন্টিনা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, দ্বীপগুলো তাদের সার্বভৌম ভূখণ্ডের অংশ।
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই খেলোয়াড়দের ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনাকে ‘সম্পূর্ণ বৈধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, এই বার্তা আর্জেন্টিনার জনগণের অনুভূতির প্রতিফলন। তবে তিনি মনে করেন, এ ঘটনায় ফিফা দলটিকে জরিমানা করতে পারে।
বুয়েনস এইরেসের একটি রেডিও স্টেশনকে মিলেই বলেন, ‘খেলোয়াড়রা যা করেছে, তা বোঝা যায়। তারা আবেগের বশে এমন করেছে, মুহূর্তের তাড়নায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। আর এর ফলে সম্ভবত জরিমানা নিয়ে আলোচনা হবে।’
সেমিফাইনালের আগেই উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিয়্যারুয়েল। তিনি ইংলিশদের ‘দখলদার জলদস্যু’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ নাগরিক নিহত হন।