যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতি বিষয়ক বিশ্লেষক ত্রিতা পার্সি

লারিজানির হত্যাকাণ্ড যুদ্ধ থেকে ট্রাম্পের বের হওয়ার পথ কঠিন করবে:

ডেস্ক রিপোর্ট
  ১৮ মার্চ ২০২৬, ১৪:০৯
আলি লারিজানি ও ডোনাল্ড ট্রাম্প।

জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিজানির হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার রাত থেকে তারা ইসরায়েলে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। ক্লাস্টার ওয়ারহেড (গুচ্ছ বোমা) যুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাতও হেনেছে। এমন অবস্থায় যুদ্ধ থেকে ট্রাম্পের বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা বাধাগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন এক বিশ্লেষক।
যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতি বিষয়ক থিংক ট্যাঙ্ক কুইন্সি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক ত্রিতা পার্সির মতে, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান হিসেবে লারিজানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। তিনি হয়তো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ছিলেন না, কিন্তু ইরানি শাসনব্যবস্থার ভেতরে ঐকমত্য তৈরির কাজ করতেন।
পার্সির মতে, গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের পর থেকে ইরান সব গুরুত্বপূর্ণ পদের বিকল্প ব্যক্তি নির্ধারণ করে রেখেছে। কারণ, ইরানিরা জানে তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব নির্মূলের মাধ্যমে ইসরায়েল শাসনব্যবস্থাকে ভেতর থেকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করবে।
ত্রিতা পার্সি বলেন, লারিজানির হত্যাকাণ্ড যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ইরান সরকারের সক্ষমতায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। বরং এটি ট্রাম্পের জন্য যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথকে কঠিন করে তুলবে। কারণ, লারিজানির মতো প্রভাবশালী ব্যক্তি না থাকায়; যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার জন্য ট্রাম্প আর কাউকে খুঁজে পাবেন না। শাসনব্যবস্থার অভ্যন্তরে লারিজানি ঐকমত্য গড়ে তোলার কাজ করতেন। তাঁকে হত্যার মাধ্যমে ট্রাম্প এক ধরনের সুযোগ হারালেন।
কুইন্সি ইনস্টিটিউটের এই বিশ্লেষকের মতে, ইসরায়েলিরা একে একে শাসনব্যবস্থার সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিদের হত্যা করছে। প্রশ্ন হলো, এর মাধ্যমে তারা কি ট্রাম্পের যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টার সম্ভাব্য পথগুলো বন্ধ করে দিয়ে সংঘাত আরও দীর্ঘস্থায়ী করতে চাইছে?
 আলজাজিরার