মসজিদে নববীর নিয়মিত ইমাম যারা

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:২৪


বিশ্বজুড়ে কোটি মুসলমানের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র ইসলামের দ্বিতীয় পবিত্রতম স্থান মসজিদে নববী। প্রতিদিনের নামাজ, জুমা, তারাবি ও খুতবার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহকে দিকনির্দেশনা দেন এই মসজিদের ১১জন খতিব। এখানে মসজিদে নববীর বর্তমান ইমামদের তালিকা ও সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরা হলো।

১. শায়খ আব্দুর রহমান আল হুদাইফি
মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম শায়খ আব্দুর রহমান আল হুদাইফি। ১৯৯৭ সালে রাজকীয় আদেশে তিনি মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব নিযুক্ত হন। 
১৯৬৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন শায়খ আব্দুর রহমান আল হুদাইফি। রিয়াদের কলেজ অব শরিয়ায় পড়াশোনা শেষে ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সৌদ বিশ্ববিদ্যালয়ের হাইয়ার ইনস্টিটিউট অব জুডিশিয়ারি থেকে মাস্টার্স ও ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
বিচারিক পেশায় প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর নাজরান ও রিয়াদের বিভিন্ন আদালতে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন।  ১৯৯৭ সালে রাজকীয় আদেশে তিনি মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব নিযুক্ত হন। 
২. শায়খ হুসাইন আল শায়খ
১৯৯৭ সাল থেকে মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শায়খ হুসাইন আল শায়খ।
১৯৬৪ সালে জন্ম নেওয়া শায়খ হুসাইন আলে শায়খ বিখ্যাত আলে-শায়খ পরিবারের সন্তান। রিয়াদের কলেজ অব শরিয়ায় পড়াশোনা শেষে উচ্চতর বিচারিক শিক্ষায় ডিগ্রি নেন। তিনি ফিকহ, আকিদা ও হাদিসে পাঠদান করেছেন। 
৩. শায়খ সালেহ আল বুদাইর
১৯৯৮ সালে রাজকীয় আদেশে মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব হন শায়খ সালেহ আল বুদাইর। ১৯৭০ সালে সৌদি আরবের আল-হুফুফে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। 

১৪ বছর বয়সেই কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেন শায়খ সালেহ আল বুদাইর। ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সৌদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শরিয়া বিষয়ে পড়াশোনা করেন তিনি।
৪. শায়খ আব্দুল বারী আস-সুবাইতী
শায়খ আব্দুল বারী আস-সুবাইতী প্রথমে মসজিদুল হারামের ইমাম ছিলেন। ১৯৯০ সালে মক্কার মসজিদুল হারামে ৪ বছরের জন্য তারাবির ইমাম হিসাবে নিযুক্ত হন তিনি। এরপর ১৯৯৪ সালে মদিনার মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব হিসেবে নিযুক্ত হন।
শায়খ আব্দুল বারী আস-সুবাইতী ১৯৬০ সালে মক্কায় জন্ম গ্রহণ করেন। শৈশবেই কোরআন হিফজ করেন এবং অল্প বয়সে শিক্ষাদান শুরু করেন। কিং আবদুলআজিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক, পরবর্তীতে শরিয়ায় মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি তাইবাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইমামস অ্যান্ড প্রিচার্সে অধ্যাপনা করছেন।
৫. শায়খ আব্দুল মহসিন আল-কাসিম
১৯৯৭ সালে মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব হিসেবে নিযুক্ত হন শায়খ আব্দুল মহসিন আল-কাসিম। তিনি ১৯৬৭ সালে মক্কায় জন্ম গ্রহণ করেন। রিয়াদের ফ্যাকাল্টি অব শরিয়া থেকে স্নাতক এবং তুলনামূলক ফিকহে মাস্টার্স ও পিএইচডি সম্পন্ন করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মসজিদে নববীর ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
৬. শায়খ আবদুল্লাহ আল-বুয়াইয়ান
২০১৩ সালে রাজকীয় আদেশে মসজিদে নববীর ইমাম হিসেবে নিয়োগ পান শায়খ ড. আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আল বুয়াইজান। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ সফরে আসেন তিনি। 
১৯৭৯ সালে জন্ম গ্রহণ করেন শায়খ ড. আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আল বুয়াইজান। ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সৌদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শরিয়ায় স্নাতক ও উচ্চতর মাস্টার্স করেন।
৭. শায়খ আহমাদ হুদাইফি
মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম শায়খ আব্দুর রহমান আল হুদাইফির ছেলে শায়খ আহমাদ হুদাইফি। মসজিদে নববীর আগে তিনি মসজিদে কুবার ইমাম ছিলেন। 
ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব মদিনা থেকে মাস্টার্স ও পিএইচডি সম্পন্ন করেন। ১৪৪১ হিজরিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ইমাম নিযুক্ত হন তিনি।
৮. শায়খ ড. খালিদ বিন সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ আল মুহান্না
২০১৫ সালে রমজানে মসজিদে নববীর তারাবির ইমাম হিসেবে নিয়োগ পান শায়খ খালিদ মুহান্না। এরপর ২০১৯ সালে তাকে মসজিদে নববীর ইমাম হিসেবে নিযুক্ত করা করা হয়। ২০২২ সালে মসজিদে নববীর খতিব হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।  
১৯৭৬ সালে জন্ম গ্রহণ করেন শায়খ খালিদ মুহান্না। তিনি ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সৌদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একাডেমিকভাবে যুক্ত।
৯. শায়খ আবদুল্লাহ আল-কারাফি
সুমধুর ও স্থির কোরআন তিলাওয়াতের জন্য পরিচিত মসজিদে নববীর ইমাম শায়খ আবদুল্লাহ আল-কারাফি। মদিনা থেকে সম্প্রচারিত সালাত ও তিলাওয়াতের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান।
১০. শায়খ মুহাম্মদ বারহাজি
সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত তাইবাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোরআনিক কিরাআত বিষয়ের অধ্যাপক শায়খ মুহাম্মদ বারহাজি। পরবর্তীতে তিনি মসজিদে নববীর ইমাম হিসেবে নিযুক্ত হন।
১১. শায়খ সালেহ আল-মাগামসি
মসজিদে নববীর নবনিযুক্ত ইমাম শায়খ সালেহ আল-মাগামসি। ২০২৬ সালের রমজানের শুরুতে সৌদি আরবের রাজকীয় আদেশে তাকে মসজিদে নববীর ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
১৯৬৩ সালে মদিনা অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। কিং আবদুলআজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন এবং ইবনে বাজ, ইবনে উসাইমিনসহ খ্যাতিমান আলেমদের কাছে দীক্ষা নেন তিনি।
মসজিদে নববীর আগে তিনি মসজিদে কুবার সাবেক ইমাম ও খতিব ছিলেন।
মসজিদে নববীর এই ইমামরা শুধু দৈনন্দিন নামাজের ইমামতি করেন না, তারা তাদের খুতবা, দাওয়াত ও শিক্ষার মাধ্যমে বিশ্ব মুসলিম সমাজের নৈতিক ও ধর্মীয় পথনির্দেশনাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।