
ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে এবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর দ্বারস্থ হচ্ছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচির পর মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়ে চিঠি দিয়েছেন জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা।
জানা গেছে, লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, রাজ্যসভার বিরোধীদলীয় নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে, তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ ইন্ডিয়া জোটের বিভিন্ন শরিক দলের সংসদীয় নেতারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের জন্য সময় চেয়েছেন। আগামী ৭ থেকে ৯ অক্টোবরের মধ্যে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিরোধী নেতারা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াসহ নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের অভিযোগ রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরতে চান। তাদের দাবি, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে যথেষ্ট স্বচ্ছতা নেই এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় অভিমুখে মিছিল করেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।
রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে আয়োজিত ওই মিছিলে সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব, তৃণমূল কংগ্রেসের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, এনসিপি নেতা সুপ্রিয়া সুলেসহ বিভিন্ন দলের নেতারা অংশ নেন। তবে আম আদমি পার্টি (এএপি) এবং দ্রাবিড় মুন্নেত্র কড়গম (ডিএমকে)-এর কোনো প্রতিনিধি মিছিলে উপস্থিত ছিলেন না।
মিছিলটি নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের কাছাকাছি পৌঁছালে দিল্লি পুলিশ তা আটকে দেয়। পরে বিরোধী সংসদ সদস্যরা আকাশবাণী ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
তবে আন্দোলনকে কেবল দিল্লিকেন্দ্রিক রাখার পরিকল্পনা নেই ইন্ডিয়া জোটের। জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে এবং ভোটার তালিকা নিয়ে অভিযোগ তুলে ধরতে আগামী দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন শহরে বড় ধরনের জনসভা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
জোট সূত্রে জানা গেছে, আগামী নভেম্বরের শুরুতে নয়াদিল্লিতে একটি বড় সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ জোটের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
বিরোধী শিবিরের কৌশল হলো ভোটার তালিকা ও ভোটাধিকার ইস্যুকে শুধু সংসদ বা রাজধানী দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গনে সীমাবদ্ধ না রেখে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এ লক্ষ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে সভা-সমাবেশ, প্রচার কর্মসূচি এবং জনসংযোগ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্যোগ ইন্ডিয়া জোটের চলমান আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।