পশ্চিম তীরে জাতিসংঘ সংস্থার প্রশিক্ষণকেন্দ্র দখলে নিয়েছে ইসরায়েল

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  ২৫ আগস্ট ২০২৬, ২৩:০১

অধিকৃত পশ্চিম তীরের পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি শরণার্থীর জন্য কাজ করা জাতিসংঘ সংস্থা ‘ইউএনআরডব্লিউএ’-এর একটি কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে সাঁজোয়া যান নিয়ে ঢুকে সেটি দখলে নিয়েছে ইসরায়েল।
মঙ্গলবার সকালের এ ঘটনা সম্পর্কে আরব নিউজকে জাতিসংঘ সংস্থাটি জানায়, “অন্তত চারটি সাঁজোয়া যান এবং ৫০ জনের বেশি ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তা কারিগরি প্রশিক্ষণ শিবিরে প্রবেশ করে।”
“ইউএনআরডব্লিউএ তাদের প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ইসরায়েলি বাহিনীর এই অনুপ্রবেশের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।”
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির এক্সে প্রশিক্ষণকেন্দ্র ক্যাম্পাসের একটি ছবি পোস্ট করে বলেছেন, “ইউএনআরডব্লিউএ আমাদের দখলে।”
কালান্দিয়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় সুরক্ষিত একটি জাতিসংঘ স্থাপনা। এটি ইউএনআরডব্লিউএ-এর সবচেয়ে পুরনো কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
ইউএনআরডব্লিউএ পূর্ব জেরুজালেমে তাদের এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ অন্যান্য জাতিসংঘ স্থাপনার অখণ্ডতা রক্ষা করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছে।
একইসঙ্গে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য ইউএনআরডব্লিউএ তাদের গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলোর ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে।
গত জানুয়ারিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ইউএনআরডব্লিউএ এর সদরদপ্তর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। ইসরায়েল ও পূর্ব জেরুজালেমে সংস্থাটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে একটি আইন পাস হওয়ার পর এটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
পশ্চিম তীরে জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থার পরিচালক রোল্যান্ড ফ্রিডরিখ বলেছেন, ইসরায়েলের অনুপ্রবেশ আন্তর্জাতিক আইনের একটি চরম লঙ্ঘন।
ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাস মঙ্গলবার জাতিসংঘ সংস্থার প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ইসরায়েলের অভিযানের নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেছে, “এই পদক্ষেপ ফিলিস্তিনের জনগণের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত আগ্রাসনেরই প্রতিফলন। এই অভিযান জাতিসংঘের সনদ ও আন্তর্জাতিক কনভেনশনের জন্য স্পষ্টতই চ্যালেঞ্জ।”
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের কাছে অবিলম্বে ইসরায়েলের এমন তৎপরতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানিয়েছে হামাস।
গাজা হামাসের দখলে থাকলেও ফিলিস্তিনের প্রয়াত নেতা ইয়াসির আরাফতের গড়া সংগঠন ফাতাহ-এর নেতৃত্বাধীন জোট ‘প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন’ (পিএলও)-এর শাসনাধীনে আছে পশ্চিম তীর।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া ‘স্বশাসিত ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ’ সেখানকার সরকার পরিচালনা করছে।