ভারত-চীন সীমান্ত আলোচনার জন্য চীন সফরে যাচ্ছেন অজিত দোভাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  ২৩ আগস্ট ২০২৬, ২৩:৪৯

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল আগামী সোমবার চিন সফরে যাচ্ছেন। বেইজিংয়ে তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে সীমান্ত বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক করবেন।
এই বৈঠক হবে ২৫ তম দফার ভারত-চীন সীমান্ত আলোচনা। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সীমান্ত বিরোধ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারত-চীন সীমান্ত সমস্যার সমাধান খুঁজতে ২০০৩ সাল থেকে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা হয়ে আসছে। দোভালের এবারের চীন সফরকালে বৈঠকটি হবে মঙ্গলবার।
এমন এক সময়ে এই বৈঠক হতে চলেছে, যখন অরুণাচল প্রদেশ ঘিরে দিল্লি এবং চীনের মধ্যে বাকবিতন্ডা নতুন করে বেড়েছে।
গত বছর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ২৪তম দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার দোভাল প্রথম বেইজিংয়ে এ পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন।
সফরের সময়সূচিও তাৎপর্যপূর্ণ। আগামী সেপ্টেম্বরের ১২-১৩ তারিখে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। আন্তর্জাতিক এই জোটের অন্যতম সদস্য চীন। দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়েরও সম্মেলনে থাকার কথা। 
চীন এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু না জানালেও জিনপিংয়ের দিল্লি সফর নিয়ে আশাবাদী দু’দেশই। সেক্ষেত্রে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং জিনপিংয়ের আলাদা ভাবে আলোচনায় বসারও সম্ভাবনা আছে।
দোভালের চীন সফর সেই সম্ভাবনা আরও জোরাল করতে পারে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে। বৈঠকে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়টি প্রধান আলোচ্য হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শনিবার দিল্লিতে এক আলোচনাসভাতেই ভারত-চীন সম্পর্ক নিয়ে দিল্লির অবস্থান স্পষ্ট করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
জানিয়ে দেন, সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হলে সীমান্তে শান্তি এবং স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হবে। দু’দেশের সম্পর্ক কেমন হবে, তা স্বাভাবিক ভাবেই অনেকাংশে স্থির করবে দু’দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি।
২০২০ সালে লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে চীনা সেনাদের সংঘর্ষের প্রায় চার বছরেরও বেশি সময় ধরে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে এক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। 
শেষে ২০২৪ সালে রাশিয়ার কাজানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক হয় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের। তারপর থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ফের ধীরে ধীরে উন্নত হতে শুরু করে। 
প্রায় ছ’বছর বন্ধ থাকার পর সদ্য সিকিমের নাথুলা, হিমাচল প্রদেশের শিপকিলা এবং উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ দিয়ে ফের ভারত-চীন বাণিজ্যপথ শুরু হয়েছে।
এরই মধ্যে অরুণাচল প্রদেশ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। অতীতে বিভিন্ন সময়ে অরুণাচলের বিভিন্ন জায়গার নিজের মতো নামকরণ করেছে চিন। এর প্রতিবাদ জানায় ভারত। কিন্তু চীন বার বারই অরুণাচল প্রসঙ্গে নাক গলিয়েছে।
তা নিয়ে দুই দেশের বিবাদের মধ্যেই ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা দোভাল যাচ্ছেন চীনে। ভারত সীমান্তের বিষয়টিকে সবচেয়ে গুরুত্ব সহকারে দেখে।
এই প্রেক্ষাপটে দোভালের সফর দুই দেশের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধির চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই বৈঠক কেবল সীমান্ত আলোচনা নয়, বরং বৃহত্তর সম্পর্ক উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করতে পারে।