ভারতে ছড়িয়ে পড়া স্টুডেন্ট আন্দোলনের নেপথ্য কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্
  ২৩ জুলাই ২০২৬, ২৩:৫৮

শিক্ষার্থীদের নিয়ে চলমান ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে হাজারো সমর্থক নয়াদিল্লিতে অবস্থান নিয়েছে। তাদের প্রধান দাবি, ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তৃতীয় মেয়াদে এটিকে তার সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় জনচ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কেন ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি?
ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এ বিক্ষোভের তাৎক্ষণিক কারণ ছিল ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভারতের মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষাটি বাতিল করা হয়।
গত ৩ মে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। পরে পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর হতাশা থেকে অন্তত এক ডজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। জুন মাসে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়।

কেন নিট এত গুরুত্বপূর্ণ?
ভারতে স্নাতক পর্যায়ে মেডিকেল শিক্ষায় ভর্তি হওয়ার একমাত্র জাতীয় পরীক্ষা হলো নিট। প্রতি বছর লাখো শিক্ষার্থী এতে অংশ নিলেও আসন রয়েছে দেড় লাখেরও কম। ফলে এটি ভারতের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষাগুলোর একটি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমিত আসনের কারণে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নিতে হয়। এতে মানসিক চাপ, হতাশা এবং অনেক ক্ষেত্রে ঋণের বোঝাও বেড়ে যায়।

এর আগে কি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে?
ভারতে বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষা ও নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নতুন ঘটনা নয়। ২০২৪ সালেও কিছু এলাকায় নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছিল, যদিও তখন পুনঃপরীক্ষা নেওয়া হয়নি।
এ ছাড়া পুলিশ কনস্টেবল, শিক্ষকসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও অতীতে ফাঁস হয়েছে।

এবার কেন বিষয়টিতে এত আলোচনা?
এবারের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আত্মপ্রকাশ করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি ব্যঙ্গধর্মী যুব আন্দোলন। মে মাসের মাঝামাঝি গঠিত এই আন্দোলন কয়েক দিনের মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে লাখো অনুসারী অর্জন করে
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩০ বছরের কম বয়সী তরুণদের মধ্যে উচ্চ বেকারত্ব, শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনায় জমে থাকা ক্ষোভই এই আন্দোলনের মূল শক্তি।

সরকারের প্রতিক্রিয়া
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেছেন, সরকার শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ দূর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার আনা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
বিক্ষোভকারীদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে—অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের মুক্তি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে প্রতি পরিবার ১ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ প্রদান।

আন্দোলনের বর্তমান পরিস্থিতি
ভারতের সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলের সময় পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করলেও হাজারো বিক্ষোভকারী এখনও দিল্লির অবস্থানস্থলে অবস্থান করছেন। আন্দোলনের নেতারা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
এদিকে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলও সংসদের ভেতরে ও বাইরে এই ইস্যুতে সরকারকে চাপে রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ ভোটারদের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে এমন এই ইস্যু মোদি সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।