যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে আলোচনা

অবরুদ্ধ ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের সম্পদ মুক্ত করার চেষ্টা ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  ২৬ মে ২০২৬, ২১:০৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইরানের আলোচকরা বিদেশে অবরুদ্ধ থাকা তাদের প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের সম্পদ মুক্ত করার চেষ্টা করছেন। ২৬ মে (মঙ্গলবার) ইরানের একটি গণমাধ্যম এ তথ্য দিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে তেহরান ১৪-দফা রূপরেখা চূড়ান্ত করার কথা জানানোর পাশাপাশি ইরানের একটি শীর্ষ প্রতিনিধি দল কাতারে অবস্থানকালে তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ ধরনের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
সংবাদ সংস্থা তাসনিম আলোচনা দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছে, আলোচনা চলাকালীন সময়ে ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ অবমুক্ত করা হবে এবং ১৪-দফার সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী এই অর্থের পরিমাণ আনুমানিক ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। সূত্রটি আরও জানায়, ইরান দাবি করেছে, এই অঙ্কের প্রায় অর্ধেক সমঝোতা স্মারক ঘোষণার শুরুতেই সহজলভ্য বা ব্যবহারের উপযোগী করতে হবে।

ইরানের গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে কেবল তাসনিম-ই এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।
উল্লেখ্য, ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদুলনাসের হেম্মতির সমন্বয়ে গঠিত শীর্ষ প্রতিনিধি দলটি আলোচনার জন্য গতকাল সোমবার কাতারে পৌঁছায়।
আজ মঙ্গলবার তাসনিম জানিয়েছে, অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি গালিবাফের কাতার সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ইরানের দাবি বাস্তবায়ন এবং প্রথম ধাপে অবরুদ্ধ ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারে ইরানের প্রবেশাধিকার বা তা ব্যবহারের পদ্ধতির বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো।
বিদেশে ইরানের মোট অবরুদ্ধ সম্পদের পরিমাণ নিয়ে কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নেই, তবে ইরানি গণমাধ্যমগুলো সম্প্রতি এই সম্পদের মোট পরিমাণ ১০ হাজার কোটি থেকে ১২ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের মধ্যে বলে আভাস দিয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালে, ইরানে আটক পাঁচ মার্কিন নাগরিকের মুক্তির শর্তে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকগুলোতে অবরুদ্ধ থাকা ৬০০ কোটি ডলারের ইরানি তহবিল কাতারে স্থানান্তর করা হয়েছিল। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর (যার মাধ্যমে গাজা যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল) ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় সেই তহবিল আর কখনো অবমুক্ত করা হয়নি।