
তামিলনাড়ুর রাজনীতির হিসাবনিকাশ ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তন হচ্ছে। চার দিনের নানা নাটকীয়তার পর গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় জানা গেল—কয়েকটি দল সমর্থন দেওয়ায় থালাপতি বিজয়ের টিভিকের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হয়েছে। রাতে সেই অবস্থান বদলে গেল। একটি দল সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। আরেকটি দল সমর্থনের ঘোষণা দিলেও রাজ্যপাতের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয়নি। এতে আজ শনিবার বিজয়ের দলের সরকার গড়তে শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায়। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ প্রথমে বিজয়ের দল টিভিকেকে সমর্থনের কথা জানালেও পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। দলটি এখন ক্ষমতাসীন ডিএমকের নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের হাতে রয়েছে দুটি আসন, যা এই সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
অন্যদিকে ভিসেকে নামের আরেকটি দলও সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছিল। তবে রাজ্যপালের কাছে তারা আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি জমা দেয়নি। পরে জানা যায়, দলটি তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে। পাশাপাশি উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদ চাওয়ার বিষয়টিও তারা সামনে এনেছে।
এই দুই দলের সমর্থন না থাকায় থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন জোট প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের সংখ্যা ছুঁতে পারেনি। ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের সঙ্গে দেখা করেন বিজয়। অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া বিজয়কে সেই বৈঠকে রাজ্যপাল স্পষ্ট করে দেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ না থাকলে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ দেওয়া সম্ভব না। সব মিলিয়ে জোট রাজনীতির জটিল সমীকরণে আপাতত পিছিয়ে পড়েছেন থালাপতি বিজয়। নির্বাচনে দক্ষিণী মেগাস্টার বিজয়ের দল টিভিকে ১০৮টি আসনে জয় পায়।