
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানোর সিদ্ধান্তের দায়ভার নিজের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথের ওপর চাপিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এনডিটিভি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার (২৩ মার্চ) ‘মেম্ফিস সেফ টাস্ক ফোর্স’ গোলটেবিল বৈঠকে তিনি জানান, হেগসেথই তার প্রশাসনের প্রথম শীর্ষ কর্মকর্তা ছিলেন যিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার পক্ষে ছিলেন।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য ওয়াশিংটনে তীব্র আলোচনা সৃষ্টি করেছে, কারণ প্রশাসনের ভেতরে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন পরস্পরবিরোধী ব্যাখ্যা রয়েছে।
‘মেম্ফিস সেফ টাস্ক ফোর্স’-এর একটি গোলটেবিল বৈঠকে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, হেগসেথই তার প্রশাসনের প্রথম শীর্ষ কর্মকর্তা যিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পক্ষে সওয়াল হয়েছিলেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘পিট, আমার মনে হয় আপনিই প্রথম সোচ্চার হয়েছিলেন এবং বলেছিলেন- চলুন এটা করি, কারণ আপনি তাদের পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পেতে দিতে পারেন না।’
অভিযান অনুমোদনের আগের মুহূর্তগুলো বর্ণনা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন যে, তিনি বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে ফোন করেছিলেন। তিনি বলেন, আমি পিটকে ফোন করেছিলাম। আমি জেনারেল কেইনকে ফোন করেছিলাম। আমি আমাদের অনেক দক্ষ মানুষকে ফোন করেছিলাম।'
মূলত ইরানের ক্রমবর্ধমান হুমকির মোকাবিলা করার বিষয়ে আলোচনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে মার্কিন হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন ইরান ও তার মিত্রদের জড়িয়ে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা এই অভিযানকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, ড্রোন উৎপাদন ক্ষমতা এবং নৌ-শক্তি ধ্বংস করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
পর্দার আড়ালের খবর অনুযায়ী, হামলা চালানো হবে কি না তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন দ্বিধাবিভক্ত ছিল। ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স- যিনি দীর্ঘকাল ধরে বিদেশের মাটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে আসছেন- এই অভিযানের ব্যাপারে খুব একটা উৎসাহী ছিলেন না। যদিও তিনি প্রকাশ্যে এর বিরোধিতাও করেননি।
অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, যেমন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মিডিয়া মোগল রুপার্ট মারডক, সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে উৎসাহ দিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে কিছু উপদেষ্টা এই বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন।