লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম, সরবরাহ শঙ্কায় বিশ্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৩:০৮

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চালানো আগ্রাসনের জবাবে ইরানের হামলায় অস্থির হয়ে পড়েছে বিশ্বের তেল বাণিজ্য। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্লেষকরা বলছে, শঙ্কা বাড়তে থাকলে দাম আরও বাড়বে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড রোববার (৮ মার্চ) ২০ শতাংশের বেশি বেড়ে এক পর্যায়ে ১১৪ ডলার প্রতি ব্যারেল পর্যন্ত উঠে যায়। সোমবার তা ব্যারেলপ্রতি ১১৯.৫০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। তবে কিছুটা কমে ১১২.৯৮ ডলারে লেনদেন হচ্ছে এখন। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর এই প্রথম তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ আরও কয়েকদিন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় অপরিশোধিত তেলের দাম ২৪ শতাংশ বেড়ে যায়। এসময় এশিয়ায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ১১৪ দশমিক ৭৪ ডলারে দাড়িয়েছে।  
একই সময়ে কম ঘনত্বের এনওয়াইমেক্স ক্রুডের দাম ২৬ শতাংশের বেশি বেড়ে দাঁড়ায় ১১৪ দশমিক ৭৮ ডলারে। ট্রেডিং ডটকম অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী পিটার ম্যাকগুইর ধারণা করছেন, তেলের দামের দ্রুত উত্থান ও অস্থিরতা আরও নাটকীয় মোড় নিতে পারে।
ম্যাকগুইর বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও দেশ যদি তেল ও গ্যাস উৎপাদন বন্ধ করে দেয়, তাহলে দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা যাবে। তখন ব্যারেলপ্রতি দাম ১৪০ থেকে ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জি-৭ ভুক্ত দেশের অর্থমন্ত্রীরা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার মাধ্যমে মজুত তেল যৌথভাবে বাজারে ছাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন। এমন পদক্ষেপ বাজারের উদ্বেগ এবং দামের অস্থিরতা কিছুটা কমাতে পারে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সময়ে তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ দেখাননি, ‘স্বল্প সময়ের জন্য তেলের দাম বাড়া কোনো বড় বিষয় নয়। ইরানের পারমাণবিক হুমকি ধ্বংস হয়ে গেলে তেলের দাম দ্রুত কমে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য এটি খুবই ছোট মূল্য।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইটও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। তিনি ফেইস দ্য নেশন অনুষ্ঠানে বলেন, পেট্রোলের দাম বাড়লেও তা সাময়িক হবে।
ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড কর্পস হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হামলা চালিয়ে গেলে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। এমন পরিস্থিতিতে তেলের দাম ২০০ ডলার প্রতি ব্যারেল পর্যন্ত উঠতে পারে বলেও সতর্ক করেছে তারা।